ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান Logo মেসিকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ রাজপরিবার Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত: প্রসিকিউটর Logo ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় সব করা হবে: ধর্মমন্ত্রী Logo অলিম্পিক ক্রিকেটের বাছাইপর্ব হবে ২০২৮ সালের শুরুতে Logo সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম Logo জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: দিলারা চৌধুরী Logo বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন Logo এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর Logo কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল ভাড়া দিলেই ব্যবস্থা, বললেন নারী সংসদ সদস্য
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: দিলারা চৌধুরী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি শক্তিশালী করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সাবেক কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়িত না হলে জাতির দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুনরায় একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেটকে সম্মান না জানালে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণকে অর্থবহ ও টেকসই করতে হলে সমাজে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. নাইমা মোয়াজ্জেম দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে দলমত নির্বিশেষে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ মিয়া প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও জনবান্ধব না করলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী পারস্পরিক রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার তাগিদ দেন।

গোলটেবিল বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং আইনি বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে আধিপত্যবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। বক্তারা পরিশেষে একমত হন যে, কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ট্যাগস :

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: দিলারা চৌধুরী

আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি শক্তিশালী করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সাবেক কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়িত না হলে জাতির দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুনরায় একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেটকে সম্মান না জানালে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণকে অর্থবহ ও টেকসই করতে হলে সমাজে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. নাইমা মোয়াজ্জেম দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে দলমত নির্বিশেষে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ মিয়া প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও জনবান্ধব না করলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী পারস্পরিক রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার তাগিদ দেন।

গোলটেবিল বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং আইনি বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে আধিপত্যবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। বক্তারা পরিশেষে একমত হন যে, কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।