ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উইন্টার কোর্স, উন্নয়নসংক্রান্ত নানা বিষয়ে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ Logo ফ্রেজার–ম্যাগার্কের ১৪ বলের ফিফটিতে নতুন কিছু দেখল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট Logo দুর্গাপূজায় নাশকতার হুমকির তথ্য নেই, স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করতে পারে: ফায়ার সার্ভিস Logo সরকারি গুদামে সার, চরে চরে হাহাকার Logo পূজার ছুটিতে খোলা থাকবে দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন Logo শিশু হাসপাতালে কক্ষেই চিকিৎসকের ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo বিয়ে নাকি আর্থিক প্রস্তুতি: মুমিন কোনটা এগিয়ে রাখবে Logo বিশ্বসেরা অলিভ অয়েল তৈরি হয় ইতালির যে গ্রামে Logo অবৈধ ফোন বন্ধে আবার উদ্যোগ, বৈধ সেটের দামে কী প্রভাব পড়বে Logo কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সরকারি গুদামে সার, চরে চরে হাহাকার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হলেও কৃষকদের চরম সার সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। জমিতে প্রয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সার খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষকরা। দীর্ঘ সময় ঘুরে অনেক কষ্টে এক বস্তা সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে অথবা বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে তা কিনতে হচ্ছে। কেউ কেউ সময়মতো সার না পেয়ে এখনো তাদের জমির আবাদ শুরুই করতে পারেননি। অথচ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার চর গুপ্তমনি এলাকার বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুট্টা চাষের জন্য সার কিনতে গিয়ে তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একেক দোকানে সারের দাম একেক রকম চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে প্রতি বস্তা সার ১ হাজার ৪০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক কৃষক ইউরিয়া সার কিনতে না পেরে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর ডিএপি সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এখানকার বেশিরভাগ কৃষক তাদের আয়ের প্রধান উৎস ভুট্টা চাষের জন্য এই সারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় কৃষকদের একসাথে মাত্র ২০ থেকে ৩০ কেজি সার দেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। পরিচয়পত্র ও নানা জটিল নিয়মের বেড়াজালে সার সংগ্রহ করা সাধারণ কৃষকদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোনো রকমে সার জোগাড় করতে পারলেও প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকরা খালি হাতে ফিরছেন। এর আগে আমন ধান চাষের সময়ও চরাঞ্চলের কৃষকদের একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিলারদের বরাদ্দ এবং বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফুলছড়ি উপজেলার ৭৮টি চরে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বছর ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রধান এই ফসলের জন্য প্রচুর পরিমাণে সারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নতুন বিতরণ নীতিমালা এবং প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার বিতরণের নতুন নিয়ম চালু করা হলেও কৃষকরা তার সুফল পাচ্ছেন না। ডিলার পয়েন্ট থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় বিক্রয় প্রতিনিধিরাও কৃষকদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উইন্টার কোর্স, উন্নয়নসংক্রান্ত নানা বিষয়ে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ

সরকারি গুদামে সার, চরে চরে হাহাকার

আপডেট সময় ০২:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হলেও কৃষকদের চরম সার সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। জমিতে প্রয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সার খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষকরা। দীর্ঘ সময় ঘুরে অনেক কষ্টে এক বস্তা সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে অথবা বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে তা কিনতে হচ্ছে। কেউ কেউ সময়মতো সার না পেয়ে এখনো তাদের জমির আবাদ শুরুই করতে পারেননি। অথচ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার চর গুপ্তমনি এলাকার বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুট্টা চাষের জন্য সার কিনতে গিয়ে তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একেক দোকানে সারের দাম একেক রকম চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে প্রতি বস্তা সার ১ হাজার ৪০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক কৃষক ইউরিয়া সার কিনতে না পেরে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর ডিএপি সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এখানকার বেশিরভাগ কৃষক তাদের আয়ের প্রধান উৎস ভুট্টা চাষের জন্য এই সারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় কৃষকদের একসাথে মাত্র ২০ থেকে ৩০ কেজি সার দেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। পরিচয়পত্র ও নানা জটিল নিয়মের বেড়াজালে সার সংগ্রহ করা সাধারণ কৃষকদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোনো রকমে সার জোগাড় করতে পারলেও প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকরা খালি হাতে ফিরছেন। এর আগে আমন ধান চাষের সময়ও চরাঞ্চলের কৃষকদের একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিলারদের বরাদ্দ এবং বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফুলছড়ি উপজেলার ৭৮টি চরে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বছর ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রধান এই ফসলের জন্য প্রচুর পরিমাণে সারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নতুন বিতরণ নীতিমালা এবং প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার বিতরণের নতুন নিয়ম চালু করা হলেও কৃষকরা তার সুফল পাচ্ছেন না। ডিলার পয়েন্ট থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় বিক্রয় প্রতিনিধিরাও কৃষকদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।