ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ Logo এল নিনোতে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তার অবনতি, সতর্ক করল আইএমএফ Logo ঘর বাঁচলে জীবন বাঁচে, দারিদ্র্য কমে, মর্যাদাও বাড়ে Logo দেশে উচ্চশিক্ষিতদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকই কাজ করেন যোগ্যতার নিচে: আইএমএফ Logo চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু দুর্গাপূজা প্রস্তুতি ১৯৪৯ মণ্ডপে Logo অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্ক নেই—বড় গবেষণায় দাবি Logo পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বিক্ষোভে যাওয়ার অনলাইন গেম ভাইরাল ভারতে Logo মুসলিম সমাজে মোনাফেক কারা, তারা কীভাবে কাজ করে Logo খুলনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ-বিএনপির মধ্যে ডিলারশিপ ভাগাভাগি Logo সড়ক আছে, বিদ্যুৎ-চিকিৎসা-মাধ্যমিক শিক্ষা নেই কুরুকপাতায়
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

দেশে উচ্চশিক্ষিতদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকই কাজ করেন যোগ্যতার নিচে: আইএমএফ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের শ্রমবাজারে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক গভীর সংকটজনক চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক সাম্প্রতিক প্রকাশনায়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দেশের মোট উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশই বর্তমানে কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার বারো থেকে তেরো শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও, উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে এই বেহাল দশা অত্যন্ত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার অর্জিত মানের সঙ্গে বর্তমান শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার ব্যাপক ফারাক থাকার কারণেই মূলত তরুণ সমাজ নিজেদের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যারা কোনো না কোনোভাবে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে পেরেছেন, তাঁদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় পঞ্চাশ শতাংশই অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। অর্থাৎ, এসব উচ্চশিক্ষিত কর্মজীবীরা এমন সব পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন যেখানে তাঁদের অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা, মেধা এবং বিশেষায়িত দক্ষতার কোনো বাস্তব মূল্যায়ন বা যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া তরুণদের পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত চাহিদার বড় ধরনের ব্যবধানই এই সংকটের মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে অনেক মেধাবী তরুণকে বাধ্য হয়েই নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিম্ন স্তরের কাজে যুক্ত হতে হচ্ছে, যা দিনশেষে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাকেও দারুণভাবে সীমিত করে দিচ্ছে।

দেশের শ্রমবাজারের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এখানে অনানুষ্ঠানিক খাতের অতিমাত্রায় আধিপত্য রয়েছে। কৃষি এবং অন্যান্য বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র বা চুক্তি থাকে না, ফলে তাঁদের চাকরির কোনো নিশ্চিত নিরাপত্তাও থাকে না। এমনকি এসব খাতের কর্মীরা পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত হন, যার ফলে প্রচলিত বেকারত্বের পরিসংখ্যান দিয়ে কর্মসংস্থানের প্রকৃত অনিশ্চয়তা ও হতাশা সম্পূর্ণ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। আগামী দিনে এই চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, বিশেষ করে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকে অর্থাৎ দুই হাজার পঁচিশ থেকে দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে দেশের ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় দশ থেকে বারো শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। জনমিতিক এই বিরাট সম্ভাবনাকে সফলভাবে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে দেশের উৎপাদনমুখী ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও শ্রমবাজারে পড়তে শুরু করেছে, যেখানে এআই প্রযুক্তির কারণে কিছু নির্দিষ্ট পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে শ্রমবাজারের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ট্যাগস :

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশে উচ্চশিক্ষিতদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকই কাজ করেন যোগ্যতার নিচে: আইএমএফ

আপডেট সময় ০৬:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের শ্রমবাজারে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক গভীর সংকটজনক চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক সাম্প্রতিক প্রকাশনায়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দেশের মোট উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশই বর্তমানে কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার বারো থেকে তেরো শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও, উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে এই বেহাল দশা অত্যন্ত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার অর্জিত মানের সঙ্গে বর্তমান শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার ব্যাপক ফারাক থাকার কারণেই মূলত তরুণ সমাজ নিজেদের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যারা কোনো না কোনোভাবে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে পেরেছেন, তাঁদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় পঞ্চাশ শতাংশই অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। অর্থাৎ, এসব উচ্চশিক্ষিত কর্মজীবীরা এমন সব পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন যেখানে তাঁদের অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা, মেধা এবং বিশেষায়িত দক্ষতার কোনো বাস্তব মূল্যায়ন বা যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া তরুণদের পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত চাহিদার বড় ধরনের ব্যবধানই এই সংকটের মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে অনেক মেধাবী তরুণকে বাধ্য হয়েই নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিম্ন স্তরের কাজে যুক্ত হতে হচ্ছে, যা দিনশেষে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাকেও দারুণভাবে সীমিত করে দিচ্ছে।

দেশের শ্রমবাজারের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এখানে অনানুষ্ঠানিক খাতের অতিমাত্রায় আধিপত্য রয়েছে। কৃষি এবং অন্যান্য বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র বা চুক্তি থাকে না, ফলে তাঁদের চাকরির কোনো নিশ্চিত নিরাপত্তাও থাকে না। এমনকি এসব খাতের কর্মীরা পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত হন, যার ফলে প্রচলিত বেকারত্বের পরিসংখ্যান দিয়ে কর্মসংস্থানের প্রকৃত অনিশ্চয়তা ও হতাশা সম্পূর্ণ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। আগামী দিনে এই চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, বিশেষ করে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকে অর্থাৎ দুই হাজার পঁচিশ থেকে দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে দেশের ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় দশ থেকে বারো শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। জনমিতিক এই বিরাট সম্ভাবনাকে সফলভাবে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে দেশের উৎপাদনমুখী ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও শ্রমবাজারে পড়তে শুরু করেছে, যেখানে এআই প্রযুক্তির কারণে কিছু নির্দিষ্ট পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে শ্রমবাজারের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।