ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo কীভাবে চলে মারিয়া–রমেশের সংসার Logo এইচএসসিতে ১০ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, সময় আরও বেড়েছে Logo কুড়িয়ে পাওয়া টাকার মালিকের খোঁজে মাইকিং টেক্সটাইল শ্রমিকের Logo খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের Logo পাথরের ব্যবসা ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান, অনাবাদি জমিতে গড়েছেন সমন্বিত খামার Logo মেঘনার বুকে ১৭ কেজির কাতলা, বিক্রি হলো ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় Logo ৭ নভেম্বর ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপির দ্বিচারিতা আছে: হাসনাত Logo বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া Logo রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায় Logo মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না তখন নিজেরাই প্রতিরোধ শুরু করে: নাহিদ ইসলাম
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর: বাগানে এখনো বাহারি আম

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: সাধারণত আমের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক আগেই বাজার থেকে বিদায় নেয় হিমসাগর, ল্যাংড়া কিংবা ফজলির মতো জনপ্রিয় ফলগুলো। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার খয়রাবাদে প্রবেশ করলে এই চিরচেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। সেখানে সারি সারি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে এখনো থোকা থোকা আম ঝুলতে দেখা যায়, যা দেখে পথচারীরা সহজেই অবাক হন। নভেম্বর মাসের মতো সময়েও গাছভরা এমন তাজা আম দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান এবং এই অসময়ে আম পাওয়ার বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেন। স্থানীয় উৎপাদকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে এখন বছরের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও নানা জাতের আম ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের পেছনে রয়েছেন রবিউল ইসলাম নামের এক উদ্যমী ব্যক্তি, যিনি গত প্রায় তিন দশক ধরে গাছের চারা এবং আমের বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। দীর্ঘ সাধনার ফলে তিনি বর্তমানে বারো বিঘার একটি বিশাল আমবাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এই বাগানে প্রচলিত জাতের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকে সংগৃহীত এবং পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা নানা জাতের গাছ রয়েছে। কাটিমন, ক্ষীরশাপাতি, গৌড়মতি, রেড পালমার এবং কল্যাণভোগের মতো হরেক রকমের আমের সমাহার প্রমাণ করে যে তিনি কেবল ফল উৎপাদন করছেন না, বরং নতুন জাত নিয়ে নিরন্তর কাজ করছেন।

দীর্ঘদিনের এই শখ ও সাধনা বর্তমানে একটি সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে যা তাঁর অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন জাতের সায়ন এবং আমের ফলন বিক্রির মাধ্যমে তাঁর আয় বছরওয়ারী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাঁর এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী চিন্তা এবং কঠোর পরিশ্রম, যা সাধারণ চাষিদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। আম চাষের প্রচলিত ধারা ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে কৃষির মাধ্যমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য হলো কেবল একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সারা বছরই সাশ্রয়ী মূল্যে আম পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে নতুন জাতের সায়ন সংগ্রহ করে স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটিতে সেগুলোর উপযোগিতা পরীক্ষা করছেন। তাঁর এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত জাতের আম পাওয়ার আশা দেখছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে চলে মারিয়া–রমেশের সংসার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর: বাগানে এখনো বাহারি আম

আপডেট সময় ০৬:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: সাধারণত আমের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক আগেই বাজার থেকে বিদায় নেয় হিমসাগর, ল্যাংড়া কিংবা ফজলির মতো জনপ্রিয় ফলগুলো। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার খয়রাবাদে প্রবেশ করলে এই চিরচেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। সেখানে সারি সারি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে এখনো থোকা থোকা আম ঝুলতে দেখা যায়, যা দেখে পথচারীরা সহজেই অবাক হন। নভেম্বর মাসের মতো সময়েও গাছভরা এমন তাজা আম দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান এবং এই অসময়ে আম পাওয়ার বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেন। স্থানীয় উৎপাদকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে এখন বছরের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও নানা জাতের আম ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের পেছনে রয়েছেন রবিউল ইসলাম নামের এক উদ্যমী ব্যক্তি, যিনি গত প্রায় তিন দশক ধরে গাছের চারা এবং আমের বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। দীর্ঘ সাধনার ফলে তিনি বর্তমানে বারো বিঘার একটি বিশাল আমবাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এই বাগানে প্রচলিত জাতের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকে সংগৃহীত এবং পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা নানা জাতের গাছ রয়েছে। কাটিমন, ক্ষীরশাপাতি, গৌড়মতি, রেড পালমার এবং কল্যাণভোগের মতো হরেক রকমের আমের সমাহার প্রমাণ করে যে তিনি কেবল ফল উৎপাদন করছেন না, বরং নতুন জাত নিয়ে নিরন্তর কাজ করছেন।

দীর্ঘদিনের এই শখ ও সাধনা বর্তমানে একটি সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে যা তাঁর অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন জাতের সায়ন এবং আমের ফলন বিক্রির মাধ্যমে তাঁর আয় বছরওয়ারী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাঁর এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী চিন্তা এবং কঠোর পরিশ্রম, যা সাধারণ চাষিদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। আম চাষের প্রচলিত ধারা ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে কৃষির মাধ্যমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য হলো কেবল একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সারা বছরই সাশ্রয়ী মূল্যে আম পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে নতুন জাতের সায়ন সংগ্রহ করে স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটিতে সেগুলোর উপযোগিতা পরীক্ষা করছেন। তাঁর এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত জাতের আম পাওয়ার আশা দেখছেন এলাকাবাসী।