ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার পথে হেঁটে চলা Logo শ্রীপুরে অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা, গ্রেপ্তার ৩ Logo প্রতিবছর ইসরাইলকে দেওয়া ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প Logo ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউয়ের ফাঁদ পেতে বাইন্যান্স থেকে চুরি হয় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার Logo শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: জাহেদ উর রহমান Logo কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া প্রসিকিউটর দেশ ছেড়েছেন, চিফ প্রসিকিউটর বললেন নিষেধাজ্ঞা ছিল না Logo বড়দিন উদ্‌যাপনে দুই কোটি টাকা চেয়েছিল খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রধানমন্ত্রী দিলেন তিন কোটি Logo ‘আন্ধার’-এর মুক্তির আগেই নতুন সিনেমায় চঞ্চল, তুষি ও সিয়াম Logo মঞ্চে জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ Logo মোটরসাইকেলের ট্যাংকে ছিদ্র হচ্ছে, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: জাহেদ উর রহমান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনাপর্ব থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি মূলত গণতান্ত্রিক চর্চাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল বাহাত্তরের সংবিধান ও তিয়াত্তরের নির্বাচন নিয়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সে সময়কার নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের কোনো ন্যূনতম সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ছিল না। তা সত্ত্বেও কেন সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও বুঝতে পেরেছিলেন যে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে তাঁর দলের নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে। এই আশঙ্কা থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। অথচ নিশ্চিত বিজয় জেনেও শেখ মুজিব প্রথম নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন যে, একটি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে অনেকে রাজনৈতিক দল বিএনপিকে শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য প্রকারান্তরে সাধারণ জনগণের মৌলিক ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে হলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐকমত্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন কমিশন নানা বিষয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত পোষণের বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে তাঁরা সাধুবাদ জানালেও বিদায়ের আগে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে যেভাবে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার পথে হেঁটে চলা

শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: জাহেদ উর রহমান

আপডেট সময় ০৯:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনাপর্ব থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি মূলত গণতান্ত্রিক চর্চাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল বাহাত্তরের সংবিধান ও তিয়াত্তরের নির্বাচন নিয়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সে সময়কার নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের কোনো ন্যূনতম সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ছিল না। তা সত্ত্বেও কেন সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও বুঝতে পেরেছিলেন যে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে তাঁর দলের নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে। এই আশঙ্কা থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। অথচ নিশ্চিত বিজয় জেনেও শেখ মুজিব প্রথম নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন যে, একটি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে অনেকে রাজনৈতিক দল বিএনপিকে শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য প্রকারান্তরে সাধারণ জনগণের মৌলিক ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে হলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐকমত্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন কমিশন নানা বিষয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত পোষণের বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে তাঁরা সাধুবাদ জানালেও বিদায়ের আগে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে যেভাবে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা।