ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না —রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ Logo কওমি ঘরানার ৭ দলের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী দল’ Logo সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে পাঁচ এমপির সংবাদ সম্মেলন Logo নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করবেন না, সরকারকে বিরোধীদলীয় নেতা Logo রুয়েটের গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, ‘বড় সুযোগ ছিল’ বলা যুবকের বাবাও ডিবি হেফাজতে Logo হিরণ পয়েন্ট ও নলিয়ান পরিদর্শন শেষে মোংলা নৌঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী Logo ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: ভোলায় স্পিকার Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ আছে Logo মোংলায় বানৌজাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo জাতীয়তাবাদী শক্তি ক্ষমতায় থাকলে হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করে: তথ্যমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

রুয়েটের গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, ‘বড় সুযোগ ছিল’ বলা যুবকের বাবাও ডিবি হেফাজতে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অপরাধ ডেস্ক: সম্প্রতি রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তাতে জীবননাশের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করায় এক তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত ওই তরুণের নাম আবু বকর সিদ্দিক, যিনি রাজধানীর একটি কলেজে অধ্যয়নরত। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াতের একটি ছবি ফেসবুকে দেখার পর তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। এই ঘটনার জেরে কেবল ওই তরুণকেই নয়, বরং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবাকেও আটক করা হয়। বর্তমানে বাবা ও ছেলে উভয়েই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ফেসবুকে করা ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে গত কয়েকদিন আগে যৌথ অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা আয়নাল হককে আটক করা হয়। অভিযানের শুরুতে তরুণটিকে না পেয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে জেলার পবা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আবু বকরকে খুঁজে বের করা হয়। আটকের পর তাদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই অভিযানে তাদের একটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কিছু সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।

আটকের পর অভিযুক্ত তরুণের পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আবু বকর একজন নিরীহ, পরিশ্রমী ও মেধাবী তরুণ যিনি পড়াশोनার পাশাপাশি ভ্যানে করে সবজি পরিবহনের কাজ করতেন। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও তাকে একজন নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, যেখানে কেউ কেউ তাকে অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বললেও ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তা জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবু বকরের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরকালে রুয়েটের একটি বাসে চড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করেছিলেন। সেই সময় রাস্তার দুপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীও তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। পরে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সেই সফরের একটি ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হলে, তার কমেন্ট বক্সে আবু বকর সিদ্দিক নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পরই দ্রুত এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না —রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ

রুয়েটের গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, ‘বড় সুযোগ ছিল’ বলা যুবকের বাবাও ডিবি হেফাজতে

আপডেট সময় ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সম্প্রতি রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তাতে জীবননাশের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করায় এক তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত ওই তরুণের নাম আবু বকর সিদ্দিক, যিনি রাজধানীর একটি কলেজে অধ্যয়নরত। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াতের একটি ছবি ফেসবুকে দেখার পর তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। এই ঘটনার জেরে কেবল ওই তরুণকেই নয়, বরং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবাকেও আটক করা হয়। বর্তমানে বাবা ও ছেলে উভয়েই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ফেসবুকে করা ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে গত কয়েকদিন আগে যৌথ অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা আয়নাল হককে আটক করা হয়। অভিযানের শুরুতে তরুণটিকে না পেয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে জেলার পবা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আবু বকরকে খুঁজে বের করা হয়। আটকের পর তাদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই অভিযানে তাদের একটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কিছু সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।

আটকের পর অভিযুক্ত তরুণের পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আবু বকর একজন নিরীহ, পরিশ্রমী ও মেধাবী তরুণ যিনি পড়াশोनার পাশাপাশি ভ্যানে করে সবজি পরিবহনের কাজ করতেন। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও তাকে একজন নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, যেখানে কেউ কেউ তাকে অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বললেও ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তা জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবু বকরের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরকালে রুয়েটের একটি বাসে চড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করেছিলেন। সেই সময় রাস্তার দুপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীও তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। পরে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সেই সফরের একটি ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হলে, তার কমেন্ট বক্সে আবু বকর সিদ্দিক নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পরই দ্রুত এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।