ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার মামলায় আরও একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ Logo রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিক আটক, প্রতিক্রিয়া টোকিওর Logo ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ২৪ হাজার কোটি টাকা Logo নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা Logo ফ্রিজের ওপর সাইবার হামলার কথা আগে শুনেছেন? ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটে এমনটা হলো কেন Logo ট্রাইব্যুনাল আইন হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ আমলের ঘটনা নিয়ে আসা হয়েছে: মনসুরুল হক চৌধুরী Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি Logo পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দুই বছর, সাত মামলার রায় Logo ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ জন
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ২৪ হাজার কোটি টাকা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার। এই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো ছিল, যখন সরকার ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো আগের ঋণ পরিশোধ করেছিল। ফলে গত বছর ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার মতো ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয় না বাড়ায় সরকারের পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ঋণ। বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে দেশের সামগ্রিক বেসরকারি খাত ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। অনেক কলকারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার মোট ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকারের ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সরকার তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় একুশ শতাংশের বেশি ঋণ এরই মধ্যে গ্রহণ করে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, এনবিআরের জন্য নির্ধারিত বিশাল অংকের রাজস্ব আড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং এর ফলে আগামী দিনে সরকারের আর্থিক ওপর চাপ আরও তীব্র হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের পরিধি বিস্তারের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারি অর্থের অপচয় কঠোরভাবে রোধ করার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার মামলায় আরও একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ২৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ০২:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার। এই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো ছিল, যখন সরকার ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো আগের ঋণ পরিশোধ করেছিল। ফলে গত বছর ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার মতো ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয় না বাড়ায় সরকারের পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ঋণ। বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে দেশের সামগ্রিক বেসরকারি খাত ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। অনেক কলকারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার মোট ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকারের ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সরকার তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় একুশ শতাংশের বেশি ঋণ এরই মধ্যে গ্রহণ করে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, এনবিআরের জন্য নির্ধারিত বিশাল অংকের রাজস্ব আড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং এর ফলে আগামী দিনে সরকারের আর্থিক ওপর চাপ আরও তীব্র হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের পরিধি বিস্তারের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারি অর্থের অপচয় কঠোরভাবে রোধ করার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।