ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo শিক্ষাসহ তিন সচিব পেলেন সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা Logo ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার সরকারের Logo ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মীরসরাইয়ে কারখানা করবে চীনা প্রতিষ্ঠান Logo বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো Logo নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ Logo নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি Logo ৮০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে পাঠাল ড্যাফোডিল বন্ধুসভা Logo মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্ট অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী জেবা ইসলাম সেরাজ Logo সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না কেন, কী বলছেন ব্যবসায়ীরা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

প্রযুক্তি ডেস্ক: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় বলয় বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বৃহস্পতির আংটির মতো দেখতে ম্যাগনেটোডিস্কটি একটি নিখুঁত ও মসৃণ থালার মতো যা গ্রহের ঘূর্ণনের সঙ্গে আবর্তিত হয়। তবে সম্প্রতি নাসার মহাকাশযান জুনোর পাঠানো নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন গবেষকরা।

চীনের শানডং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল সায়েন্স চায়না আর্থ সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির অতি দ্রুত ঘূর্ণন এবং এর সবচেয়ে ভেতরের দিককার সক্রিয় চাঁদ আইওর আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা কণাগুলো মিলে এই চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। গ্রহটি নিজের অক্ষে প্রতি ৯.৯ ঘণ্টায় একবার ঘুরে আসলেও এর ম্যাগনেটোডিস্কটি কোনো মসৃণ আকৃতি বজায় রাখে না।

জুনোর পাঠানো সংকেত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতির চৌম্বক বলয়টি অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় থাকলে এর ম্যাগনেটোডিস্ক দুমড়ে-মুচড়ে ঢেউখেলানো তরঙ্গের আকার ধারণ করে। মহাকাশের চৌম্বকীয় বলরেখাগুলো প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গিয়ে নতুন করে জোড়া লাগার প্রক্রিয়া বা রিকানেকশনের সময় এই অদ্ভুত ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। পুকুরের জলে ঢিল ছুড়লে যেমন ঢেউ খেলে যায়, এখানকার বিদ্যুৎবাহী স্তরটিও ঠিক তেমনিভাবে কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢেউয়ের মতো আকৃতি নেয়।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের আচরণের সঙ্গে বৃহস্পতির এই ব্যবস্থার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর ক্ষেত্রে চৌম্বকীয় তরঙ্গ রিকানেকশন সাইট থেকে দূরে সরে গেলেও বৃহস্পতিতে কারেন্ট শিট নিজেই ঢেউখেলানো অবস্থায় গ্রহের সঙ্গে তীব্র বেগে ঘুরতে থাকে। এই নতুন আবিষ্কার সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহটির জটিল পরিবেশ এবং মহাজাগতিক কণাগুলোর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সমঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাসহ তিন সচিব পেলেন সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা

বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো

আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় বলয় বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বৃহস্পতির আংটির মতো দেখতে ম্যাগনেটোডিস্কটি একটি নিখুঁত ও মসৃণ থালার মতো যা গ্রহের ঘূর্ণনের সঙ্গে আবর্তিত হয়। তবে সম্প্রতি নাসার মহাকাশযান জুনোর পাঠানো নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন গবেষকরা।

চীনের শানডং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল সায়েন্স চায়না আর্থ সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির অতি দ্রুত ঘূর্ণন এবং এর সবচেয়ে ভেতরের দিককার সক্রিয় চাঁদ আইওর আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা কণাগুলো মিলে এই চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। গ্রহটি নিজের অক্ষে প্রতি ৯.৯ ঘণ্টায় একবার ঘুরে আসলেও এর ম্যাগনেটোডিস্কটি কোনো মসৃণ আকৃতি বজায় রাখে না।

জুনোর পাঠানো সংকেত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতির চৌম্বক বলয়টি অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় থাকলে এর ম্যাগনেটোডিস্ক দুমড়ে-মুচড়ে ঢেউখেলানো তরঙ্গের আকার ধারণ করে। মহাকাশের চৌম্বকীয় বলরেখাগুলো প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গিয়ে নতুন করে জোড়া লাগার প্রক্রিয়া বা রিকানেকশনের সময় এই অদ্ভুত ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। পুকুরের জলে ঢিল ছুড়লে যেমন ঢেউ খেলে যায়, এখানকার বিদ্যুৎবাহী স্তরটিও ঠিক তেমনিভাবে কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢেউয়ের মতো আকৃতি নেয়।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের আচরণের সঙ্গে বৃহস্পতির এই ব্যবস্থার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর ক্ষেত্রে চৌম্বকীয় তরঙ্গ রিকানেকশন সাইট থেকে দূরে সরে গেলেও বৃহস্পতিতে কারেন্ট শিট নিজেই ঢেউখেলানো অবস্থায় গ্রহের সঙ্গে তীব্র বেগে ঘুরতে থাকে। এই নতুন আবিষ্কার সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহটির জটিল পরিবেশ এবং মহাজাগতিক কণাগুলোর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সমঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।