ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ভারতে যাওয়ার পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক Logo পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর Logo ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো Logo বড় জয়ে এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতি সারল রিয়াল মাদ্রিদ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মাদার অব অল বম্বসের জবাবে ফাদার অব অল বম্বস আনছে ইরান Logo ইসরাইলের বসতি নীতির বিরোধী, জনগণের সঙ্গে বিরোধ নেই: যুক্তরাজ্য Logo ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতাদের মন্তব্য মূর্খতাপূর্ণ: ম্যাক্রোঁ Logo ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন, শত্রুকে তার ভূখণ্ডেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি Logo চট্টগ্রামের ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ ঘুরে যা বললেন অভিনেত্রী পূজা চেরী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী এবং নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নদী পারাপারের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এই পারাপার প্রক্রিয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

প্রতিনিয়ত এই যাতায়াত সংকট চলতে থাকায় এবং সরকারি কোনো উদ্যোগের দেখা না মেলায় এলাকাবাসী নিজেরাই এর একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা শুরু করেন। জনগণের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় ২৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ হাতে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন, আবদুল মান্নান এবং অলি আহমেদের সরাসরি নেতৃত্বে এই স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

উদ্যোক্তাদের একজন এয়াকুব মজুমদার জানিয়েছেন যে, জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান এবং নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নিরাপদ ও সহজ করা। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেনের মতে, এই স্থানে যদি একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা যায়, তবে তা শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতই সুগম করবে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান যে, নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন বহু শিশু নানা কষ্ট সহ্য করে তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাঁশের এই সাঁকোটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জনবহুল পয়েন্টে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

ভারতে যাওয়ার পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক

ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো

আপডেট সময় ০৫:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী এবং নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নদী পারাপারের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এই পারাপার প্রক্রিয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

প্রতিনিয়ত এই যাতায়াত সংকট চলতে থাকায় এবং সরকারি কোনো উদ্যোগের দেখা না মেলায় এলাকাবাসী নিজেরাই এর একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা শুরু করেন। জনগণের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় ২৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ হাতে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন, আবদুল মান্নান এবং অলি আহমেদের সরাসরি নেতৃত্বে এই স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

উদ্যোক্তাদের একজন এয়াকুব মজুমদার জানিয়েছেন যে, জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান এবং নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নিরাপদ ও সহজ করা। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেনের মতে, এই স্থানে যদি একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা যায়, তবে তা শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতই সুগম করবে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান যে, নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন বহু শিশু নানা কষ্ট সহ্য করে তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাঁশের এই সাঁকোটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জনবহুল পয়েন্টে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।