ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে: ট্রাম্প

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে খুব দ্রুতই দেশটিতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো সমঝোতা কিংবা চুক্তি সম্ভব হলে সামরিক সংঘাতের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোও সম্ভব। কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক অভিযান—উভয় পথই বর্তমানে খোলা রেখেছেন এই মার্কিন নেতা। সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প রহস্য বজায় রেখে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই চূড়ান্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, তেহরানের মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে মার্কিন বাহিনী বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল, তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, এই সংকটের এমন একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তেহরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না পায়। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ওয়াশিংটনের মূল সংশয় রয়েছে তেহরান সেই শর্তগুলো শেষ পর্যন্ত মেনে চলবে কি না তা নিয়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তার এই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেননি। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। পরবর্তীতে সেই যুদ্ধ বিভিন্ন আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়লেও শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, হয় তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসতে হবে, নতুবা এই সংকটের চূড়ান্ত এবং কঠোর সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই থাকবে এবং তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

ট্যাগস :

‘এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না, রাজপথে ফিরতেই হতো’

চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে খুব দ্রুতই দেশটিতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো সমঝোতা কিংবা চুক্তি সম্ভব হলে সামরিক সংঘাতের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোও সম্ভব। কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক অভিযান—উভয় পথই বর্তমানে খোলা রেখেছেন এই মার্কিন নেতা। সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প রহস্য বজায় রেখে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই চূড়ান্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, তেহরানের মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে মার্কিন বাহিনী বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল, তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, এই সংকটের এমন একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তেহরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না পায়। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ওয়াশিংটনের মূল সংশয় রয়েছে তেহরান সেই শর্তগুলো শেষ পর্যন্ত মেনে চলবে কি না তা নিয়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তার এই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেননি। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। পরবর্তীতে সেই যুদ্ধ বিভিন্ন আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়লেও শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, হয় তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসতে হবে, নতুবা এই সংকটের চূড়ান্ত এবং কঠোর সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই থাকবে এবং তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।