ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo অগোছালো ঘরও হতে পারে সুখের ঠিকানা, ঘর গোছানোর ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন গবেষণা Logo পাঁচটি মৌলিক গান নিয়ে আসছে সংগীতশিল্পী সিকদার বাসুদেবের প্রথম অ্যালবাম Logo পর্যটকদের একটি বদভ্যাসে বিরক্ত জাপান Logo দিনে দিনে কেন ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন Logo গ্রামীণ বাণিজ্যের ‘জীবন্ত’ জাদুঘর Logo মাটি খুঁড়ে জমানো সোনার কণায় প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক Logo বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের রাজনীতির অধিকার নেই: জামায়াত আমির Logo ‎মেট্রোরেলের দুই লাইনের ৪ ‎প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই Logo মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফসহ ৪ আসামির রায় বৃহস্পতিবার Logo ‘আজয়াদ’ চারণভূমি: মহানবী (সা.) যেখানে মেষ চরাতেন
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

গ্রামীণ বাণিজ্যের ‘জীবন্ত’ জাদুঘর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অবস্থিত প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’ বা বর্তমানের ‘থানার হাট’ কেবল একটি সাধারণ বাজার নয়, এটি এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। ঐতিহাসিকভাবে সাবেক আরাকান সড়কের পাশে বিশাল এক বটগাছের নিচে এই হাট গড়ে উঠেছিল, যা স্থানীয় জমিদার রামসুন্দর মিস্ত্রি পটিয়ায় থানা প্রতিষ্ঠার আগে স্থাপন করেছিলেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, সে সময় বটতলার এই হাটে মাটির ঘর ও ছোট ছোট ঝুপড়িতে চলত নানা পণ্যের ব্যবসা, আর আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে হাজির হতেন। শুধু কেনাবেচাই নয়, এই হাটটি হয়ে উঠেছিল মানুষের মিলনমেলা, যেখানে ব্যবসায়িক লেনদেনের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটত।

কালের পরিক্রমায় এই বাজারের রূপ ও বিনোদনেও এসেছে নানা পরিবর্তন, যা স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে। অতীতে বিকেলের দিকে বটতলার নিচে নিয়মিত গানের আসর বসত, যেখানে হারমোনিয়াম বাজিয়ে শিল্পীরা গান পরিবেশন করতেন এবং গ্রামীণ মানুষ সেই আনন্দ উপভোগ করতে জড়ো হতেন। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এলে ব্যবসায়ীরা চেরাগ বা কুপি জ্বালিয়ে কেনাবেচা চালিয়ে যেতেন, যা এই হাটকে এক ভিন্ন মাত্রা দিত। জলপথ, সড়কপথ এবং রেল যোগাযোগের সুবাদে পটিয়া ছাড়াও আনোয়ারা, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার মানুষ এই হাটে যাতায়াত করতেন, ফলে এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ নেয়।

সময়ের বিবর্তনে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শহরের প্রসারের ফলে এই ঐতিহাসিক হাটের অবস্থান ও অবকাঠামো বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। গত শতাব্দীর শেষের দিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত পটিয়া রেলস্টেশনের পেছনে প্রায় চার একর জায়গায় বর্তমান থানার হাট গড়ে ওঠে। স্থান বদলালেও গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে এই বাজারের নাড়ির টান একটুও কমেনি এবং বর্তমানেও এখানে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে কুমারপাড়ার মাটির তৈজসপত্র কিংবা চন্দনাইশের আখ—সবকিছুই এই হাটের মাধ্যমে বিভিন্ন হাত ঘুরে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বহু মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে হাটটি পুরোনো দিনের সেই বটতলার রূপ হারিয়ে আধুনিক রূপ লাভ করলেও এর ঐতিহ্যগত গুরুত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি। থানার হাট পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত কেনাবেচা করেন এবং নারী ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষ করার মতো। তবে চার একর জায়গার এই হাটটিকে ঘিরে কিছু অব্যবস্থাপনা ও বেদখলের সমস্যা রয়েছে, যা নিরসন করা জরুরি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্রটি আগামী প্রজন্মের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

অগোছালো ঘরও হতে পারে সুখের ঠিকানা, ঘর গোছানোর ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন গবেষণা

গ্রামীণ বাণিজ্যের ‘জীবন্ত’ জাদুঘর

আপডেট সময় ০৮:৩১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অবস্থিত প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’ বা বর্তমানের ‘থানার হাট’ কেবল একটি সাধারণ বাজার নয়, এটি এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। ঐতিহাসিকভাবে সাবেক আরাকান সড়কের পাশে বিশাল এক বটগাছের নিচে এই হাট গড়ে উঠেছিল, যা স্থানীয় জমিদার রামসুন্দর মিস্ত্রি পটিয়ায় থানা প্রতিষ্ঠার আগে স্থাপন করেছিলেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, সে সময় বটতলার এই হাটে মাটির ঘর ও ছোট ছোট ঝুপড়িতে চলত নানা পণ্যের ব্যবসা, আর আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে হাজির হতেন। শুধু কেনাবেচাই নয়, এই হাটটি হয়ে উঠেছিল মানুষের মিলনমেলা, যেখানে ব্যবসায়িক লেনদেনের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটত।

কালের পরিক্রমায় এই বাজারের রূপ ও বিনোদনেও এসেছে নানা পরিবর্তন, যা স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে। অতীতে বিকেলের দিকে বটতলার নিচে নিয়মিত গানের আসর বসত, যেখানে হারমোনিয়াম বাজিয়ে শিল্পীরা গান পরিবেশন করতেন এবং গ্রামীণ মানুষ সেই আনন্দ উপভোগ করতে জড়ো হতেন। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এলে ব্যবসায়ীরা চেরাগ বা কুপি জ্বালিয়ে কেনাবেচা চালিয়ে যেতেন, যা এই হাটকে এক ভিন্ন মাত্রা দিত। জলপথ, সড়কপথ এবং রেল যোগাযোগের সুবাদে পটিয়া ছাড়াও আনোয়ারা, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার মানুষ এই হাটে যাতায়াত করতেন, ফলে এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ নেয়।

সময়ের বিবর্তনে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শহরের প্রসারের ফলে এই ঐতিহাসিক হাটের অবস্থান ও অবকাঠামো বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। গত শতাব্দীর শেষের দিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত পটিয়া রেলস্টেশনের পেছনে প্রায় চার একর জায়গায় বর্তমান থানার হাট গড়ে ওঠে। স্থান বদলালেও গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে এই বাজারের নাড়ির টান একটুও কমেনি এবং বর্তমানেও এখানে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে কুমারপাড়ার মাটির তৈজসপত্র কিংবা চন্দনাইশের আখ—সবকিছুই এই হাটের মাধ্যমে বিভিন্ন হাত ঘুরে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বহু মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে হাটটি পুরোনো দিনের সেই বটতলার রূপ হারিয়ে আধুনিক রূপ লাভ করলেও এর ঐতিহ্যগত গুরুত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি। থানার হাট পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত কেনাবেচা করেন এবং নারী ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষ করার মতো। তবে চার একর জায়গার এই হাটটিকে ঘিরে কিছু অব্যবস্থাপনা ও বেদখলের সমস্যা রয়েছে, যা নিরসন করা জরুরি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্রটি আগামী প্রজন্মের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়ে থাকবে।