ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ৬ বরকতময় ফল Logo শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন Logo হাঁটুব্যথায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কী, কতটা উপকারী Logo শ্যামনগরে সুন্দরবন উপকূলে ২১০টি ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo ‘বাধা উপেক্ষা করে’ আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন Logo আসামে দুই দিনে বাংলাভাষী মুসলিমদের ১১ শতাধিক বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল সরকার Logo ভৈরবে ফিরছে বিতর্কচর্চার সুদিন Logo ৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না —রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ Logo কওমি ঘরানার ৭ দলের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী দল’ Logo সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে পাঁচ এমপির সংবাদ সম্মেলন
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

আসামে দুই দিনে বাংলাভাষী মুসলিমদের ১১ শতাধিক বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল সরকার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বনভূমি দখলের অভিযোগ তুলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযানে সহস্রাধিক বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখল করে এসব বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদের শিকার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযਾਨের দ্বিতীয় দিনে আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছয় শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ঠিক আগের দিন রাজ্যটির নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই—এই তিন জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আরও পাঁচ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনের এই অভিযানে প্রায় এক হাজার একশটি পরিবার উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছে, যাদের সিংহভাগই বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন। লুতুমারি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, তারা জোরপূর্বক কোনো জমি দখল করেননি; বরং সত্তরের দশকে সরকারের পক্ষ থেকেই ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাদের এখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে মানুষ বসবাস করে আসছে এবং উচ্ছেদকৃতদের মধ্যে অনেকেই বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আইনি লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আদালতের কোনো প্রতিকার না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন এসব মানুষ।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিগত এক দশকের শাসনামলে সরকারি ও সংরক্ষিত জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন এই ধরনের পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ‘টংগিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। ফলস্বরূপ, হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

ট্যাগস :

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ৬ বরকতময় ফল

আসামে দুই দিনে বাংলাভাষী মুসলিমদের ১১ শতাধিক বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল সরকার

আপডেট সময় ০৪:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বনভূমি দখলের অভিযোগ তুলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযানে সহস্রাধিক বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখল করে এসব বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদের শিকার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযਾਨের দ্বিতীয় দিনে আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছয় শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ঠিক আগের দিন রাজ্যটির নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই—এই তিন জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আরও পাঁচ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনের এই অভিযানে প্রায় এক হাজার একশটি পরিবার উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছে, যাদের সিংহভাগই বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন। লুতুমারি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, তারা জোরপূর্বক কোনো জমি দখল করেননি; বরং সত্তরের দশকে সরকারের পক্ষ থেকেই ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাদের এখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে মানুষ বসবাস করে আসছে এবং উচ্ছেদকৃতদের মধ্যে অনেকেই বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আইনি লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আদালতের কোনো প্রতিকার না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন এসব মানুষ।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিগত এক দশকের শাসনামলে সরকারি ও সংরক্ষিত জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন এই ধরনের পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ‘টংগিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। ফলস্বরূপ, হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।