ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য: শিক্ষামন্ত্রী Logo আজ ডেডলাইন: সরকারি ও বেসরকারিসহ তিন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ Logo আপত্তি ও কাটছাঁটে আটকে আছে নদী কমিশন আইন Logo ৪১ বলে ৮৫ রানের পর ১০০ বলে ১৫১, চমক দেখাচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে Logo দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা Logo সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি : বাড়ছে পাচার ও মজুতের ঘটনা Logo লোকবল নিয়োগ ও ব্যয় কমানোর বিকল্প নেই Logo পদ্মা সেতুর সুফল পেতে বাধা দূর করুন Logo যারা দেশকে অচল করতে চেয়েছে, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী: এ্যানি Logo ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, নম্বর কমল, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

আপত্তি ও কাটছাঁটে আটকে আছে নদী কমিশন আইন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে গঠিত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে। উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও নতুন আইনের খসড়া এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক এবং খসড়া প্রণেতাদের প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা ও ক্ষমতার কাটছাঁটের কারণে আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। এর ফলে দেশের নদীগুলো রক্ষা করার ক্ষেত্রে কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।

কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন আইনে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার, নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা এবং দূষণকারীদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষমতা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া নদী সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা এবং নিজস্ব প্রসিকিউটর ও আইনজীবী নিয়োগের বিধান রাখারও প্রস্তাব করা হয়। তবে বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার সুপারিশগুলো খসড়া থেকে ক্রমান্বয়ে বাদ বা সংশোধন করা হয়েছে, যা কমিশনকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত আইনের বেশ কিছু ধারার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করে, নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করার ক্ষমতা কমিশনকে দিলে তা তাদের নিজস্ব কাজের পরিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং দুই সংস্থার মধ্যে কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। অন্যদিকে, নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে নদী কমিশনের পূর্বানুমতি বা অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিধান এবং সব সদস্যকে পূর্ণকালীন করার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। মূলত এসব প্রাতিষ্ঠানিক আপত্তির কারণেই আইন সংশোধনের মূল কাজ বারবার আটকে যাচ্ছে।

নদীর সুরক্ষায় কমিশনের ভূমিকা কেবল সুপারিশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় এবং নিজস্ব কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনের সাবেক প্রধান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনি সুরক্ষা এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সদস্য সংকটের কথা স্বীকার করা হলেও, কবে নাগাদ এই আইন চূড়ান্ত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য: শিক্ষামন্ত্রী

আপত্তি ও কাটছাঁটে আটকে আছে নদী কমিশন আইন

আপডেট সময় ১১:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে গঠিত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে। উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও নতুন আইনের খসড়া এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক এবং খসড়া প্রণেতাদের প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা ও ক্ষমতার কাটছাঁটের কারণে আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। এর ফলে দেশের নদীগুলো রক্ষা করার ক্ষেত্রে কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।

কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন আইনে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার, নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা এবং দূষণকারীদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষমতা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া নদী সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা এবং নিজস্ব প্রসিকিউটর ও আইনজীবী নিয়োগের বিধান রাখারও প্রস্তাব করা হয়। তবে বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার সুপারিশগুলো খসড়া থেকে ক্রমান্বয়ে বাদ বা সংশোধন করা হয়েছে, যা কমিশনকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত আইনের বেশ কিছু ধারার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করে, নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করার ক্ষমতা কমিশনকে দিলে তা তাদের নিজস্ব কাজের পরিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং দুই সংস্থার মধ্যে কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। অন্যদিকে, নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে নদী কমিশনের পূর্বানুমতি বা অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিধান এবং সব সদস্যকে পূর্ণকালীন করার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। মূলত এসব প্রাতিষ্ঠানিক আপত্তির কারণেই আইন সংশোধনের মূল কাজ বারবার আটকে যাচ্ছে।

নদীর সুরক্ষায় কমিশনের ভূমিকা কেবল সুপারিশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় এবং নিজস্ব কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনের সাবেক প্রধান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনি সুরক্ষা এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সদস্য সংকটের কথা স্বীকার করা হলেও, কবে নাগাদ এই আইন চূড়ান্ত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।