ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন: নাসিম মঞ্জুর Logo সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে Logo জিয়াউর রহমানকে খলনায়ক বানানো যাবে না: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু Logo ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট আসবেন প্রধানমন্ত্রী: দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী Logo অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রি করতে লাগবে লাইসেন্স Logo পুরুষ মডেল ভাড়া করে রোমান্টিক ছবি তুলছেন চীনা তরুণীরা Logo ৭ নভেম্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের একক দাবিদার কেউ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo কীভাবে চলে মারিয়া–রমেশের সংসার Logo এইচএসসিতে ১০ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, সময় আরও বেড়েছে Logo কুড়িয়ে পাওয়া টাকার মালিকের খোঁজে মাইকিং টেক্সটাইল শ্রমিকের
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বা এলপিজির দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় রান্নার কাজে সিলিন্ডার ব্যবহার করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা সিলিন্ডার গ্যাস বাদ দিয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি, কাঠ বা কাগজ পুড়িয়ে রান্না করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বস্তি ও টিনের ঘরের বাসিন্দারা এই পরিবর্তনের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খেটে খাওয়া মানুষ তা কিনতে পারছেন না। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এর দাম তুলনামূলক কম ছিল। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে সাধারণ মানুষ তাদের রান্নার ঐতিহ্যিক ও পুরোনো মাধ্যম মাটির চুলার শরণাপন্ন হচ্ছেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁওয়ের বস্তাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, তামান্না ও রহিমার মতো বহু নারী মাটির চুলায় লাকড়ি জ্বালিয়ে খাবার তৈরি করছেন। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালানো এসব নারীর স্বামীরা ছোটখাটো ব্যবসা বা দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডারের চড়া দাম মেটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া একটি সিলিন্ডার কিনতে একসঙ্গে আড়াই হাজার টাকা জোগাড় করাও তাদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার।

এদিকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করতে গিয়েও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষকে। বর্তমানে লাকড়ির দামও প্রতি মণ ছয় শ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। চুলার ধোঁয়া ও কালির কারণে গৃহিণীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি রান্নার কাজেও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের ক্রেতা কমে যাওয়ায় এবং লাকড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় লাকড়ি ব্যবসায়ীদের বিক্রি বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং সিলিন্ডারের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় প্রান্তিক মানুষের জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ কেবল রান্নার পেছনে ব্যয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা লাকড়ির চুলায় নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে রান্নার জ্বালানির ব্যয়ভার সামলাতে না পেরে রাজধানীবাসীর এই অংশটি চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন: নাসিম মঞ্জুর

সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে

আপডেট সময় ১২:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বা এলপিজির দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় রান্নার কাজে সিলিন্ডার ব্যবহার করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা সিলিন্ডার গ্যাস বাদ দিয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি, কাঠ বা কাগজ পুড়িয়ে রান্না করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বস্তি ও টিনের ঘরের বাসিন্দারা এই পরিবর্তনের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খেটে খাওয়া মানুষ তা কিনতে পারছেন না। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এর দাম তুলনামূলক কম ছিল। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে সাধারণ মানুষ তাদের রান্নার ঐতিহ্যিক ও পুরোনো মাধ্যম মাটির চুলার শরণাপন্ন হচ্ছেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁওয়ের বস্তাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, তামান্না ও রহিমার মতো বহু নারী মাটির চুলায় লাকড়ি জ্বালিয়ে খাবার তৈরি করছেন। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালানো এসব নারীর স্বামীরা ছোটখাটো ব্যবসা বা দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডারের চড়া দাম মেটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া একটি সিলিন্ডার কিনতে একসঙ্গে আড়াই হাজার টাকা জোগাড় করাও তাদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার।

এদিকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করতে গিয়েও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষকে। বর্তমানে লাকড়ির দামও প্রতি মণ ছয় শ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। চুলার ধোঁয়া ও কালির কারণে গৃহিণীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি রান্নার কাজেও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের ক্রেতা কমে যাওয়ায় এবং লাকড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় লাকড়ি ব্যবসায়ীদের বিক্রি বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং সিলিন্ডারের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় প্রান্তিক মানুষের জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ কেবল রান্নার পেছনে ব্যয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা লাকড়ির চুলায় নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে রান্নার জ্বালানির ব্যয়ভার সামলাতে না পেরে রাজধানীবাসীর এই অংশটি চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছেন।