ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব Logo চাঁদাবাজি রোধে নতুন আইনের চিন্তা সরকারের Logo ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পেলেন চরফ্যাশনের ইমাম Logo হাসপাতাল থেকে ফের সার্কিট হাউসে চুয়েট ভিসি, শাটডাউনে ফাঁকা ক্যাম্পাস Logo ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ Logo নতুন ঋণে শর্ত থাকবে, আলোচনা ইতিবাচক Logo সীমান্তের ১৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানালেন বিজিবি মহাপরিচালক Logo রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা Logo চাঁদাবাজিতে ভুক্তভোগী মামলা না করলে ,পুলিশ মামলা করতে পারবে Logo খাদ্যনিরাপত্তায় নতুন পথ দেখাচ্ছে ইউএইচটি প্রযুক্তি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চাঁদাবাজিতে ভুক্তভোগী মামলা না করলে ,পুলিশ মামলা করতে পারবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য কঠোরভাবে দমনে বিদ্যমান আইনি কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সে জন্য আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকেরা এ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি ভীতি বা অন্য কোনো কারণে মামলা করতে এগিয়ে না এলেও পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে পারবে।

চাঁদাবাজ ও তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত অডিও ও ভিডিও রেকর্ড সরাসরি আইনি সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের লঘু শাস্তির বিধান পরিবর্তন করে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আইনি সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে সরকারের এমন ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশকে বাদী করে মামলা করার বিধান চালু করা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম সোহাগের মতে, নতুন আইন তৈরির চেয়ে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগই অপরাধ দমনে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রচেষ্টায় এটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পুলিশকে বাদী না করে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বেশি জোর দিয়েছেন।

সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি এবং অপরাধের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে উচ্চশিক্ষার আবাসিক হলগুলোতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মাদক মামলা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও খুন ও ডাকাতির মতো কিছু অপরাধের প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, বিগত গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত ও নেতিবাচক ভূমিকা পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

চাঁদাবাজিতে ভুক্তভোগী মামলা না করলে ,পুলিশ মামলা করতে পারবে

আপডেট সময় ১২:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য কঠোরভাবে দমনে বিদ্যমান আইনি কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সে জন্য আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকেরা এ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি ভীতি বা অন্য কোনো কারণে মামলা করতে এগিয়ে না এলেও পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে পারবে।

চাঁদাবাজ ও তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত অডিও ও ভিডিও রেকর্ড সরাসরি আইনি সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের লঘু শাস্তির বিধান পরিবর্তন করে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আইনি সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে সরকারের এমন ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশকে বাদী করে মামলা করার বিধান চালু করা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম সোহাগের মতে, নতুন আইন তৈরির চেয়ে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগই অপরাধ দমনে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রচেষ্টায় এটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পুলিশকে বাদী না করে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বেশি জোর দিয়েছেন।

সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি এবং অপরাধের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে উচ্চশিক্ষার আবাসিক হলগুলোতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মাদক মামলা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও খুন ও ডাকাতির মতো কিছু অপরাধের প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, বিগত গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত ও নেতিবাচক ভূমিকা পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।