ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: চলتے ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকার নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়টিতে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো সরকারের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। মূলত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ না হওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের এই আর্থিক নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সরকারের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায় সেই অনুপাতে বাড়েনি। এই আর্থিক ব্যবধান ঘুচাতে এবং দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে বাধ্য হয়ে সরকারকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এর ওপর আবার নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলে সরকারের সামগ্রিক খরচের চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ আয়ের সক্ষমতা ব্যয়ের তুলনায় বেশ কম থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঋণ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রচুর জমেছে। বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত ঋণপ্রবৃদ্ধি না হওয়ায় ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ অলس ফেলে না রেখে ঝুঁকিমুক্ত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাংকাররা মনে করছেন, বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ বা ঋণের চাহিদা না বাড়লে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থলগ্নি করা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য খুব একটা ইতিবাচক নয়। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাংকগুলো অর্থ বিনিয়োগের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকলেও বেসরকারি খাতের চাহিদাই এখন মূল অন্তরায়। চলতি অর্থবছরে পুরো সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। তবে বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার প্রবণতা থাকায় এবং ঋণের বোঝা বাড়ায় সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ঋণে শর্ত থাকবে, আলোচনা ইতিবাচক

রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা

আপডেট সময় ১২:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: চলتے ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকার নিট ঋণ নিয়েছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়টিতে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো সরকারের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। মূলত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ না হওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের এই আর্থিক নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সরকারের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায় সেই অনুপাতে বাড়েনি। এই আর্থিক ব্যবধান ঘুচাতে এবং দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে বাধ্য হয়ে সরকারকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এর ওপর আবার নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলে সরকারের সামগ্রিক খরচের চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ আয়ের সক্ষমতা ব্যয়ের তুলনায় বেশ কম থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঋণ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রচুর জমেছে। বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত ঋণপ্রবৃদ্ধি না হওয়ায় ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ অলس ফেলে না রেখে ঝুঁকিমুক্ত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাংকাররা মনে করছেন, বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ বা ঋণের চাহিদা না বাড়লে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থলগ্নি করা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য খুব একটা ইতিবাচক নয়। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাংকগুলো অর্থ বিনিয়োগের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকলেও বেসরকারি খাতের চাহিদাই এখন মূল অন্তরায়। চলতি অর্থবছরে পুরো সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। তবে বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার প্রবণতা থাকায় এবং ঋণের বোঝা বাড়ায় সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।