ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সৌদিতে ‘দণ্ডপ্রাপ্তদের’ তালিকায় আরও ২০ বাংলাদেশি, নজরুল-সুইটির মতো তাঁদের শাস্তিও জানায়নি Logo দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাতে প্রতিমন্ত্রী নূরের বৈঠক Logo সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি, হুমকিতে দেশের ব্যাংক-সরকারি পোর্টাল Logo চৌদ্দগ্রামে ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেল ২২ শিশু Logo স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা শুক্রবার Logo উৎসবের পর শাড়ি আলমারিতে তুলে রাখার আগে যা করবেন Logo দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য কারখানায় বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ Logo কক্সবাজারে হেফাজতে ইসলামের গোলটেবিল বৈঠক Logo শরৎ এসে গেলেও মিথিলা মজে আছেন এই পোশাকেই Logo ২০২৭ সালে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে লিপ সেকেন্ড
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আইনের শাসন সূচকে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার ওপর চালিত এই মূল্যায়নে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে ১২৩তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। তবে এই সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও দেশটি এখনও বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে। বিশ্ব সূচকে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর শূন্য দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় স্কোর শূন্য দশমিক ৫৫ এর কাছাকাছি।

সামগ্রিক অবস্থানে পিছিয়ে থাকলেও গতবারের তুলনায় অগ্রগতির দিক থেকে বাংলাদেশ এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও অগ্রগতির বিচারে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে দেশটি। সার্বিক অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ যেখানে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে নেপাল। এরপরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত এবং বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশও আইনের শাসন রক্ষায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আফ্রিকার ঘানা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া এবং জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলোর অবস্থানও তালিকার অনেক উঁচুতে। অন্যদিকে বৈশ্বিক তালিকায় বরাবরের মতোই শীর্ষস্থানগুলো দখল করে আছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এই সূচকের একেবারে ওপরের দিকে থাকা শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং লুক্সেমবার্গ।

মূলত আটটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সূচক প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে তিনটি খাতে বাংলাদেশের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, যা হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের সঠিক প্রয়োগ। তবে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও নাজুক বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৌলিক অধিকার রক্ষায় শূন্য দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম এবং একই স্কোর নিয়ে দেওয়ানি বিচারের ক্ষেত্রে অবস্থান ১৩২তম। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকারিতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ডে দেশটির অবস্থান কিছুটা ভালো। সামগ্রিক চিত্রে এই অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবনতি ঘটায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :

সৌদিতে ‘দণ্ডপ্রাপ্তদের’ তালিকায় আরও ২০ বাংলাদেশি, নজরুল-সুইটির মতো তাঁদের শাস্তিও জানায়নি

আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আইনের শাসন সূচকে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার ওপর চালিত এই মূল্যায়নে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে ১২৩তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। তবে এই সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও দেশটি এখনও বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে। বিশ্ব সূচকে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর শূন্য দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় স্কোর শূন্য দশমিক ৫৫ এর কাছাকাছি।

সামগ্রিক অবস্থানে পিছিয়ে থাকলেও গতবারের তুলনায় অগ্রগতির দিক থেকে বাংলাদেশ এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও অগ্রগতির বিচারে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে দেশটি। সার্বিক অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ যেখানে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে নেপাল। এরপরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত এবং বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশও আইনের শাসন রক্ষায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আফ্রিকার ঘানা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া এবং জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলোর অবস্থানও তালিকার অনেক উঁচুতে। অন্যদিকে বৈশ্বিক তালিকায় বরাবরের মতোই শীর্ষস্থানগুলো দখল করে আছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এই সূচকের একেবারে ওপরের দিকে থাকা শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং লুক্সেমবার্গ।

মূলত আটটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সূচক প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে তিনটি খাতে বাংলাদেশের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, যা হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের সঠিক প্রয়োগ। তবে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও নাজুক বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৌলিক অধিকার রক্ষায় শূন্য দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম এবং একই স্কোর নিয়ে দেওয়ানি বিচারের ক্ষেত্রে অবস্থান ১৩২তম। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকারিতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ডে দেশটির অবস্থান কিছুটা ভালো। সামগ্রিক চিত্রে এই অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবনতি ঘটায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।