ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo চলচ্চিত্রে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রস্তুতি ফারুকীর, জানালেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের কথা Logo পূজার ছুটিতেই বদলে ফেলুন সকালের অভ্যাস; জেনে নিন, সকালে যা করবেন, যা করবেন না Logo আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন, বিশ্বমঞ্চে বাড়বে দেশীয় শেফদের সুযোগ Logo ‘জীবনবদলের রেসিপি’ থিমে সেরা রাঁধুনী সিজন ৯ শুরু Logo শীতের আগেই ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব বাজার Logo সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের Logo নবীজির নেতৃত্বের মৌলিক ১২ গুণ Logo ঢাবি থেকে চূড়ান্তভাবে আলাদা হলো সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি Logo সুরা আনআম: গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মর্মবাণী Logo স্মার্ট ইনহেলারে বাড়তি কী উপকার মেলে
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের সমস্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সংবাদমাধ্যমকে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর নামে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য, রেকর্ডপত্র এবং এই দম্পতির আয়কর নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে থাকা প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকাও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই দম্পতির যৌথ নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি এবং দুটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকাও আদালতের আদেশের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে যে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি এবং পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদ ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার ওপরে। অথচ তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মতো, যার ফলে তাঁর প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে, পেশায় গৃহিণী শারমিন আক্তার খানের নামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেলেও তাঁর বৈধ আয় মাত্র ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যা তাঁর আয়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি।

দুদক আদালতকে জানিয়েছে, অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের এসব অবৈধ সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো উপায়ে গোপন বা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। এই আশঙ্কা থেকেই পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় অভিযুক্তদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আদালত সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদকের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চলচ্চিত্রে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রস্তুতি ফারুকীর, জানালেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের কথা

সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

আপডেট সময় ০৫:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের সমস্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সংবাদমাধ্যমকে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর নামে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য, রেকর্ডপত্র এবং এই দম্পতির আয়কর নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে থাকা প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকাও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই দম্পতির যৌথ নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি এবং দুটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকাও আদালতের আদেশের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে যে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি এবং পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদ ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার ওপরে। অথচ তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মতো, যার ফলে তাঁর প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে, পেশায় গৃহিণী শারমিন আক্তার খানের নামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেলেও তাঁর বৈধ আয় মাত্র ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যা তাঁর আয়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি।

দুদক আদালতকে জানিয়েছে, অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের এসব অবৈধ সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো উপায়ে গোপন বা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। এই আশঙ্কা থেকেই পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় অভিযুক্তদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আদালত সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদকের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।