ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড় Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি Logo সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে। উপজেলার মোট তেপ্পান্নটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে সাতাশটি ভবনের অবস্থাই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা হওয়ায় এর মধ্যে কয়েকটি ক্লিনিক পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা ঘর কিংবা বারান্দায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এসব ক্লিনিকে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার, নাওগাঁও ইউনিয়ন এবং পৌরসভার লাহিড়ীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নেওয়া কক্ষে চলছে। লাহিড়ীপাড়া ক্লিনিকটির মূল ভবন দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে ফোরকানিয়া মাদরাসার একটি ক্ষুদ্র কক্ষে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সংকীর্ণ ওই কক্ষটিতে ওষুধপত্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকারীরাও বসেন। একই চিত্র মহেশপুর বাজার ও নাওগাঁও ক্লিনিকেও। বহু বছর আগে ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় বাজারের আশপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে বা টিনের ছাপড়া তুলে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে নামমাত্র খরচে সেবা দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এই ক্লিনিকগুলোতে উল্টো রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। ঘর ভাড়া, আয়ার বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রয়োজনীয় খাতা-কলম কেনার খরচ মেটানো হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। ক্লিনিকে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে। মহেশপুর ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী জানান, বাধ্য হয়ে রোগীদের কাছ থেকে সামান্য টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা আপত্তি তুললে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীয়ার মোট তেপ্পান্নটি ক্লিনিকের মধ্যে বিশটি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও সাতটি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক ভবনের ছাদের ঢালাই নষ্ট হয়ে রড বেরিয়ে গেছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে ভেতরের ওষুধ ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে অনেক স্থানে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন।

ট্যাগস :

মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড়

ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে। উপজেলার মোট তেপ্পান্নটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে সাতাশটি ভবনের অবস্থাই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা হওয়ায় এর মধ্যে কয়েকটি ক্লিনিক পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা ঘর কিংবা বারান্দায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এসব ক্লিনিকে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার, নাওগাঁও ইউনিয়ন এবং পৌরসভার লাহিড়ীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নেওয়া কক্ষে চলছে। লাহিড়ীপাড়া ক্লিনিকটির মূল ভবন দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে ফোরকানিয়া মাদরাসার একটি ক্ষুদ্র কক্ষে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সংকীর্ণ ওই কক্ষটিতে ওষুধপত্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকারীরাও বসেন। একই চিত্র মহেশপুর বাজার ও নাওগাঁও ক্লিনিকেও। বহু বছর আগে ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় বাজারের আশপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে বা টিনের ছাপড়া তুলে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে নামমাত্র খরচে সেবা দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এই ক্লিনিকগুলোতে উল্টো রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। ঘর ভাড়া, আয়ার বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রয়োজনীয় খাতা-কলম কেনার খরচ মেটানো হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। ক্লিনিকে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে। মহেশপুর ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী জানান, বাধ্য হয়ে রোগীদের কাছ থেকে সামান্য টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা আপত্তি তুললে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীয়ার মোট তেপ্পান্নটি ক্লিনিকের মধ্যে বিশটি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও সাতটি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক ভবনের ছাদের ঢালাই নষ্ট হয়ে রড বেরিয়ে গেছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে ভেতরের ওষুধ ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে অনেক স্থানে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন।