ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি Logo সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান Logo এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দখলের রাজত্ব চলছে বলে দাবি করেন এই রাজনৈতিক নেতা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অলি আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলা পরিষদ, ওয়াসা, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একরকম দলীয় কার্যালয়ে রূপ নিয়েছে। এসব সরকারি দপ্তর থেকে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও সম্পত্তি দখল করার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জোরালো দাবি জানান। দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের দখলদারি ও সিন্ডিকেট তৈরির ফলে সার্বিক প্রশাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে জানান তিনি।

বর্তমান প্রশাসনের এই অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে বলে সতর্ক করেন এলডিপি সভাপতি। তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে যারা সরকারের সঙ্গে রয়েছে, সুযোগ পেলেই তারা পিছু হটবে এবং তখন এই ব্যর্থতার সব দায়ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। বর্তমান সহযোগীরা বিপদের সময় পাশে থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সময়ের কাজ সময়ে না করলে পরবর্তীতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। তাই আত্মঘাতী এসব কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনজীবনের নানা সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই লংমার্চের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অলি আহমদের এই সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনকে জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানান লংমার্চে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের নেতারা।

ট্যাগস :

ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০

‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’

আপডেট সময় ০২:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দখলের রাজত্ব চলছে বলে দাবি করেন এই রাজনৈতিক নেতা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অলি আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলা পরিষদ, ওয়াসা, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একরকম দলীয় কার্যালয়ে রূপ নিয়েছে। এসব সরকারি দপ্তর থেকে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও সম্পত্তি দখল করার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জোরালো দাবি জানান। দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের দখলদারি ও সিন্ডিকেট তৈরির ফলে সার্বিক প্রশাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে জানান তিনি।

বর্তমান প্রশাসনের এই অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে বলে সতর্ক করেন এলডিপি সভাপতি। তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে যারা সরকারের সঙ্গে রয়েছে, সুযোগ পেলেই তারা পিছু হটবে এবং তখন এই ব্যর্থতার সব দায়ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। বর্তমান সহযোগীরা বিপদের সময় পাশে থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সময়ের কাজ সময়ে না করলে পরবর্তীতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। তাই আত্মঘাতী এসব কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনজীবনের নানা সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই লংমার্চের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অলি আহমদের এই সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনকে জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানান লংমার্চে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের নেতারা।