ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo প্রশাসনিক জটিলতায় জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় যেন গাফিলতি না হয়: নাহিদ ইসলাম Logo মুন্সিগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার যুবক Logo ২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেব: শিক্ষামন্ত্রী Logo সরকারি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম মাস্টারকার্ডের লাইসেন্স পেল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক Logo যুক্তির লড়াইয়ে ফাইনালে দুই দল, জয়-পরাজয়ের বাইরে বন্ধুত্বের চর্চা Logo অগোছালো ঘরও হতে পারে সুখের ঠিকানা, ঘর গোছানোর ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন গবেষণা Logo পাঁচটি মৌলিক গান নিয়ে আসছে সংগীতশিল্পী সিকদার বাসুদেবের প্রথম অ্যালবাম Logo পর্যটকদের একটি বদভ্যাসে বিরক্ত জাপান Logo দিনে দিনে কেন ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন Logo গ্রামীণ বাণিজ্যের ‘জীবন্ত’ জাদুঘর
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

পর্যটকদের একটি বদভ্যাসে বিরক্ত জাপান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান ভ্রমণের সময় কিছু বিদেশি পর্যটকের একটি অপ্রীতিকর আচরণ দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেনাকাটার পর নতুন স্যুটকেস কিনে পুরোনো ও অব্যবহৃত ব্যাগগুলো রাস্তাঘাট, পার্ক কিংবা হোটেলের আশপাশে ফেলে যাওয়ার প্রবণতা বেশ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

জাপানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী টোকিওর ইকেবুকুরো শপিং এলাকায় সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক পরিত্যক্ত স্যুটকেস উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। হোটেল এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন বেশি থাকায় এই অঞ্চলটিতে স্যুটকেস ফেলে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। পর্যটকরা সাধারণত নতুন কেনা জিনিসপত্র বা স্মারকসামগ্রী বহন করার জায়গা তৈরি করতে কিংবা বিমানের অতিরিক্ত ব্যাগেজ ফি এড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ব্যাগগুলো ফেলে যান। এছাড়া দুর্বল মুদ্রানীতির সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে টেকসই জাপানি পণ্য কিনে পুরোনো জিনিসপত্র রাস্তায় ত্যাগ করার প্রবণতাও এর পেছনে কাজ করছে।

এই যত্রতত্র ব্যাগ ফেলে দেওয়ার সংস্কৃতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। রাস্তার পাশে বা আবাসিক এলাকার কোণায় হঠাৎ করে স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখলে অনেকে বিস্ফোরক বা অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু রয়েছে সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এসব ভারী ও রহস্যজনক ব্যাগ পরীক্ষা করতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। এমনকি বিমানবন্দরগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগের তুলনায় পরিত্যক্ত ব্যাগের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টোকিওর তোশিমা ওয়ার্ড প্রশাসন খুব শীঘ্রই কঠোর শাস্তিমূলক বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার দায়ে ইতোমধ্যে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের সংস্থানও রাখা হয়েছে। দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটায় এই ধরণের বিশৃঙ্খলা রোধে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :

প্রশাসনিক জটিলতায় জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় যেন গাফিলতি না হয়: নাহিদ ইসলাম

পর্যটকদের একটি বদভ্যাসে বিরক্ত জাপান

আপডেট সময় ০৯:০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান ভ্রমণের সময় কিছু বিদেশি পর্যটকের একটি অপ্রীতিকর আচরণ দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেনাকাটার পর নতুন স্যুটকেস কিনে পুরোনো ও অব্যবহৃত ব্যাগগুলো রাস্তাঘাট, পার্ক কিংবা হোটেলের আশপাশে ফেলে যাওয়ার প্রবণতা বেশ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

জাপানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী টোকিওর ইকেবুকুরো শপিং এলাকায় সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক পরিত্যক্ত স্যুটকেস উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। হোটেল এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন বেশি থাকায় এই অঞ্চলটিতে স্যুটকেস ফেলে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। পর্যটকরা সাধারণত নতুন কেনা জিনিসপত্র বা স্মারকসামগ্রী বহন করার জায়গা তৈরি করতে কিংবা বিমানের অতিরিক্ত ব্যাগেজ ফি এড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ব্যাগগুলো ফেলে যান। এছাড়া দুর্বল মুদ্রানীতির সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে টেকসই জাপানি পণ্য কিনে পুরোনো জিনিসপত্র রাস্তায় ত্যাগ করার প্রবণতাও এর পেছনে কাজ করছে।

এই যত্রতত্র ব্যাগ ফেলে দেওয়ার সংস্কৃতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। রাস্তার পাশে বা আবাসিক এলাকার কোণায় হঠাৎ করে স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখলে অনেকে বিস্ফোরক বা অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু রয়েছে সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এসব ভারী ও রহস্যজনক ব্যাগ পরীক্ষা করতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। এমনকি বিমানবন্দরগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগের তুলনায় পরিত্যক্ত ব্যাগের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টোকিওর তোশিমা ওয়ার্ড প্রশাসন খুব শীঘ্রই কঠোর শাস্তিমূলক বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার দায়ে ইতোমধ্যে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের সংস্থানও রাখা হয়েছে। দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটায় এই ধরণের বিশৃঙ্খলা রোধে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।