আপডেট সময়
০৪:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১
বার পড়া হয়েছে
ট্রাম্প প্রশাসনে শীর্ষ পদ হারাচ্ছেন নারীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে শীর্ষ পদ থেকে নারী কর্মকর্তাদের বিদায় নেওয়ার প্রবণতা জোরালো হয়েছে। গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলের নাটকীয় বিদায়ের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির প্রথম সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের জন্য এক দাতার সহায়তা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। যদিও গিলফয়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারক মহলে নারী কর্মকর্তাদের এভাবে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী বেশ কয়েকজন নারী কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন আটজন নারী কর্মকর্তার মধ্যে চারজনই বিদায় নেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-দেরেমার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি এল. নোয়েম এবং জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নারী কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুরুষ প্রার্থীরা। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের ইতিহাসে মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দফায় এভাবে কেবল নির্দিষ্ট এক লিঙ্গের কর্মকর্তাদের বিদায় নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক পুরুষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত আচরণ, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নাম জেফরি এপস্টিনের নথিতে আসা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গোপন যুদ্ধপরিকল্পনা ফাঁস করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে পুরুষ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বরখাস্তের চেয়ে অনেক সময় লঘু দণ্ড বা পদোন্নতির ঘটনা দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অথচ সেখানে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নারী মিত্র এলিস স্টেফানিককে বসানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক টানাপোড়েনে স্টেফানিক কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।প্রশাসন থেকে নারী কর্মকর্তাদের বিদায়ের নেপথ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। পাম বন্ডি, ক্রিস্টি নোয়েম ও তুলসি গ্যাবার্ডের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন শুনানি ও সাক্ষ্যে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। অন্যদিকে, লরি শাভেজ-দেরেমার দপ্তরে অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক পরিচয় বা লিঙ্গভিত্তিক মূল্যায়নে বিশ্বাসী নন এবং তিনি কেবল দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই দল গঠন করেছেন। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার মর্যাদাপূর্ণ পদগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র চারজনে এসে ঠেকেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে শীর্ষ পদ থেকে নারী কর্মকর্তাদের বিদায় নেওয়ার প্রবণতা জোরালো হয়েছে। গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলের নাটকীয় বিদায়ের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির প্রথম সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের জন্য এক দাতার সহায়তা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। যদিও গিলফয়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারক মহলে নারী কর্মকর্তাদের এভাবে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী বেশ কয়েকজন নারী কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন আটজন নারী কর্মকর্তার মধ্যে চারজনই বিদায় নেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-দেরেমার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি এল. নোয়েম এবং জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নারী কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুরুষ প্রার্থীরা। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের ইতিহাসে মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দফায় এভাবে কেবল নির্দিষ্ট এক লিঙ্গের কর্মকর্তাদের বিদায় নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক পুরুষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত আচরণ, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নাম জেফরি এপস্টিনের নথিতে আসা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গোপন যুদ্ধপরিকল্পনা ফাঁস করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে পুরুষ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বরখাস্তের চেয়ে অনেক সময় লঘু দণ্ড বা পদোন্নতির ঘটনা দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অথচ সেখানে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নারী মিত্র এলিস স্টেফানিককে বসানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক টানাপোড়েনে স্টেফানিক কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রশাসন থেকে নারী কর্মকর্তাদের বিদায়ের নেপথ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। পাম বন্ডি, ক্রিস্টি নোয়েম ও তুলসি গ্যাবার্ডের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন শুনানি ও সাক্ষ্যে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। অন্যদিকে, লরি শাভেজ-দেরেমার দপ্তরে অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক পরিচয় বা লিঙ্গভিত্তিক মূল্যায়নে বিশ্বাসী নন এবং তিনি কেবল দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই দল গঠন করেছেন। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার মর্যাদাপূর্ণ পদগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র চারজনে এসে ঠেকেছে।