ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে Logo দিনমজুরের টাকায় তিন সড়কে ১১ যাত্রীছাউনি Logo ৪৫তম বিসিএসে গেজেট বঞ্চিতদের রি-ভেরিফিকেশন চালু, সিদ্ধান্ত চলতি মাসে Logo আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প Logo ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতা, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার Logo মানুষের মতো বক্সিং, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস খেলছে রোবট! Logo পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা Logo গরুর দুধ: উপকার কতটা, ঝুঁকিই-বা কোথায়? Logo ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’ Logo ‘ওর কথা নিয়ে বেশি ভাবছি না, নতুন এসেছে, বেশি এক্সাইটেড’
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই খাত। সম্প্রতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এই আন্দোলন ও সহিংসতার জেরে শত শত কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তব ও কঠিন পরিস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান আয়ে সংসার চালানো শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মালিকপক্ষের মুনাফা এবং শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জের কথা বললেও শ্রমিকদের এই বঞ্চনা ও কষ্টের বিষয়টি কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের নামে সড়কে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের মতো সহিংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে শিল্পের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের জীবিকাই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সুযোগসন্ধানীদের উসকানি থাকার অভিযোগ উঠলেও শুধু ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও বঞ্চনার প্রকৃত কারণগুলোও আমলে নিতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে রাস্তাঘাট শান্ত করা গেলেও শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক অসন্তোষ ও আস্থার সংকট দূর করা যাবে না। তাই সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

পোশাকশিল্পের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য মালিকপক্ষ, সরকার এবং শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত বেতন এবং জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান স্তম্ভটিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে

পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা

আপডেট সময় ০৮:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই খাত। সম্প্রতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এই আন্দোলন ও সহিংসতার জেরে শত শত কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তব ও কঠিন পরিস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান আয়ে সংসার চালানো শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মালিকপক্ষের মুনাফা এবং শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জের কথা বললেও শ্রমিকদের এই বঞ্চনা ও কষ্টের বিষয়টি কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের নামে সড়কে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের মতো সহিংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে শিল্পের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের জীবিকাই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সুযোগসন্ধানীদের উসকানি থাকার অভিযোগ উঠলেও শুধু ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও বঞ্চনার প্রকৃত কারণগুলোও আমলে নিতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে রাস্তাঘাট শান্ত করা গেলেও শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক অসন্তোষ ও আস্থার সংকট দূর করা যাবে না। তাই সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

পোশাকশিল্পের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য মালিকপক্ষ, সরকার এবং শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত বেতন এবং জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান স্তম্ভটিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।