ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। বাজার করতে গিয়ে জিনিসপত্রের লাগামছাড়া দাম দেখে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিগত এক বছরের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের সেবার মূল্য প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে সাধারণ শ্রমিকদের মজুরি বা আয় এক বিন্দুও বাড়েনি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষগুলো বাধ্য হয়ে তাদের সংসারের খরচ ছেঁটে ফেলছেন এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতেই তাদের সব অর্থ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার দাম বৃদ্ধির ধাক্কায় তাদের মাসিক হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি উল্টে গেছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট আয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে কিছু মাছ-মাংস কেনা সম্ভব হতো, এখন সেখানে শুধু চাল ও ডালের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্য কিনতেই তাদের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে পাতে সামান্য মাছ বা আমিষ তুলে দেওয়ার বিলাসিতা এখন তাদের কাছে অতীত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা অত্যন্ত হতাশার সুরে জানিয়েছেন যে, তারা গত কয়েক মাস ধরে ভালোমতো মাছ বা মাংসের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে আমিষ জাতীয় খাবার থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছেন যে, মাছের গন্ধ কেমন সেটাই তারা প্রায় ভুলে গেছেন এবং কোনো রকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই এখন তাদের একমাত্র সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর সঞ্চয় তো দূরের কথা, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাজার মনিটরিং এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনের ব্যবস্থা কার্যকর না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ শ্রমিকেরা অবিলম্বে জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য এবং তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের মতো বক্সিং, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস খেলছে রোবট!

‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’

আপডেট সময় ০৭:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। বাজার করতে গিয়ে জিনিসপত্রের লাগামছাড়া দাম দেখে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিগত এক বছরের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের সেবার মূল্য প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে সাধারণ শ্রমিকদের মজুরি বা আয় এক বিন্দুও বাড়েনি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষগুলো বাধ্য হয়ে তাদের সংসারের খরচ ছেঁটে ফেলছেন এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতেই তাদের সব অর্থ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার দাম বৃদ্ধির ধাক্কায় তাদের মাসিক হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি উল্টে গেছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট আয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে কিছু মাছ-মাংস কেনা সম্ভব হতো, এখন সেখানে শুধু চাল ও ডালের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্য কিনতেই তাদের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে পাতে সামান্য মাছ বা আমিষ তুলে দেওয়ার বিলাসিতা এখন তাদের কাছে অতীত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা অত্যন্ত হতাশার সুরে জানিয়েছেন যে, তারা গত কয়েক মাস ধরে ভালোমতো মাছ বা মাংসের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে আমিষ জাতীয় খাবার থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছেন যে, মাছের গন্ধ কেমন সেটাই তারা প্রায় ভুলে গেছেন এবং কোনো রকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই এখন তাদের একমাত্র সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর সঞ্চয় তো দূরের কথা, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাজার মনিটরিং এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনের ব্যবস্থা কার্যকর না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ শ্রমিকেরা অবিলম্বে জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য এবং তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।