ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড় Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি Logo সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করে, তাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই এই দেশের জন্ম হয়েছে এবং যারা এই ঐতিহাসিক সত্যকে অবিশ্বাস করতে চায়, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এই ধরনের স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাব দেশের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করছে বলে তিনি মনে করেন।

স্মরণসভায় ফজলুর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং একটি বিশেষ মহল কর্তৃক তা নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় ভারত সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল। ভারতীয় সেনাদের রক্তের বিনিময়েও অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কারণে তাকে অতীতে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে, এমনকি তার বাসভবন ঘেরাও করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান এবং নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি।

দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাঙালি হিসেবে সকলের পরিচয় অভিন্ন, যদিও ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাল, ডাল বা অন্য কোনো উপকরণের দাম হিন্দু কিংবা মুসলমানের জন্য আলাদা নয়, বরং সবার জীবনে একই ধরনের অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করে। তাই কৃত্রিম ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী অপশক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ এবং অসংখ্য মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ কখনোই রাজাকারদের আস্তানায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। বাঙালির সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্মরণসভার মূল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন এবং আজীবন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। ফজলুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে যে চার মূলনীতি অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই চার মূলনীতির সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন। সাম্প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতা রুখে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীর প্রতি ঐক্যের ডাক দেন।

ট্যাগস :

মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড়

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করে, তাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই এই দেশের জন্ম হয়েছে এবং যারা এই ঐতিহাসিক সত্যকে অবিশ্বাস করতে চায়, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এই ধরনের স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাব দেশের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করছে বলে তিনি মনে করেন।

স্মরণসভায় ফজলুর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং একটি বিশেষ মহল কর্তৃক তা নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় ভারত সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল। ভারতীয় সেনাদের রক্তের বিনিময়েও অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কারণে তাকে অতীতে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে, এমনকি তার বাসভবন ঘেরাও করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান এবং নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি।

দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাঙালি হিসেবে সকলের পরিচয় অভিন্ন, যদিও ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাল, ডাল বা অন্য কোনো উপকরণের দাম হিন্দু কিংবা মুসলমানের জন্য আলাদা নয়, বরং সবার জীবনে একই ধরনের অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করে। তাই কৃত্রিম ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী অপশক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ এবং অসংখ্য মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ কখনোই রাজাকারদের আস্তানায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। বাঙালির সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্মরণসভার মূল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন এবং আজীবন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। ফজলুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে যে চার মূলনীতি অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই চার মূলনীতির সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন। সাম্প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতা রুখে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীর প্রতি ঐক্যের ডাক দেন।