ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা Logo আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ Logo ডিজিটাল রূপান্তরের আগে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি: হিট প্রকল্প পরিচালক Logo ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা Logo পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি Logo ভোটের আগের রাতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণের দাবি Logo উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির Logo ওএমএসে পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা বিতরণের পরিকল্পনা সরকারের Logo গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী Logo কেয়ার বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পাবেন ২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণ-তরুণী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বোদা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও নামজারি, কাগজপত্র যাচাই এবং শুনানির তারিখ নির্ধারণের মতো সাধারণ কাজগুলোর জন্য সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সেবার প্রকৃতি এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব, যিনি আবার দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি হাসপাতালেও কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির ক্ষেত্রে দলিলের ধরন ও জমির মাপের ওপর ভিত্তি করে সার্ভেয়ার আবু সোয়েব পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করে থাকেন। এই অবৈধ লেনদেনগুলো সাধারণত তিনি সরাসরি না করে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নামজারির বিভিন্ন খুঁত দেখিয়ে আল আমিন লাবু নিজেই তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

শুধু নামজারি নয়, ফাইলের সিরিয়াল দেওয়া এবং শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্যমতে, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ শুনানির তারিখ নির্ধারণের বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। সরকারি অফিসে নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও এভাবে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করায় সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। অনেকে ভয়ে বা জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে মুখ বুজে এই বাড়তি টাকা পরিশোধ করলেও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে অভিযুক্ত কর্মচারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সার্ভেয়ার আবু সোয়েব দাবি করেছেন যে তিনি সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন ওই অফিসে যান এবং কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করেন, এর বাইরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের দাবি, কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা থাকায় সেখানে ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে অভিযুক্ত অন্য কর্মচারী আল আমিন লাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন যে তিনি ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মীর অনিয়মসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও দেখেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাসে দুর্নীতির শিকার সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

ট্যাগস :

জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

বোদা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও নামজারি, কাগজপত্র যাচাই এবং শুনানির তারিখ নির্ধারণের মতো সাধারণ কাজগুলোর জন্য সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সেবার প্রকৃতি এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব, যিনি আবার দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি হাসপাতালেও কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির ক্ষেত্রে দলিলের ধরন ও জমির মাপের ওপর ভিত্তি করে সার্ভেয়ার আবু সোয়েব পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করে থাকেন। এই অবৈধ লেনদেনগুলো সাধারণত তিনি সরাসরি না করে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নামজারির বিভিন্ন খুঁত দেখিয়ে আল আমিন লাবু নিজেই তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

শুধু নামজারি নয়, ফাইলের সিরিয়াল দেওয়া এবং শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্যমতে, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ শুনানির তারিখ নির্ধারণের বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। সরকারি অফিসে নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও এভাবে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করায় সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। অনেকে ভয়ে বা জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে মুখ বুজে এই বাড়তি টাকা পরিশোধ করলেও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে অভিযুক্ত কর্মচারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সার্ভেয়ার আবু সোয়েব দাবি করেছেন যে তিনি সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন ওই অফিসে যান এবং কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করেন, এর বাইরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের দাবি, কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা থাকায় সেখানে ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে অভিযুক্ত অন্য কর্মচারী আল আমিন লাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন যে তিনি ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মীর অনিয়মসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও দেখেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাসে দুর্নীতির শিকার সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।