ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ Logo ডিজিটাল রূপান্তরের আগে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি: হিট প্রকল্প পরিচালক Logo ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা Logo পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি Logo ভোটের আগের রাতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণের দাবি Logo উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির Logo ওএমএসে পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা বিতরণের পরিকল্পনা সরকারের Logo গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী Logo কেয়ার বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পাবেন ২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণ-তরুণী Logo বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে একটি পৃথক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ আরও সুদৃढ़ করতে এই বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে। সম্প্রতি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শহরের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই মাধ্যমটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় একশ আশিটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুসংহত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং সামগ্রিক ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষালয়ের মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত দেশি গবেষক ও শিক্ষকদেরও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভবপর হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক প্রসারের ফলে বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার সুযোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে এবং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রচলিত শিক্ষাকাঠামোকে যুগোপযোগী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে সমানভাবে শিক্ষার আলোয় আনতে না পারলেও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত থেকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দূরশিক্ষণের প্রসারে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঠিক সদ্ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে বক্তারা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশের তরুণ প্রজন্ম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ

উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

আপডেট সময় ১১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে একটি পৃথক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ আরও সুদৃढ़ করতে এই বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে। সম্প্রতি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শহরের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই মাধ্যমটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় একশ আশিটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুসংহত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং সামগ্রিক ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষালয়ের মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত দেশি গবেষক ও শিক্ষকদেরও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভবপর হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক প্রসারের ফলে বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার সুযোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে এবং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রচলিত শিক্ষাকাঠামোকে যুগোপযোগী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে সমানভাবে শিক্ষার আলোয় আনতে না পারলেও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত থেকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দূরশিক্ষণের প্রসারে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঠিক সদ্ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে বক্তারা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশের তরুণ প্রজন্ম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।