ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেব না Logo বাংলাদেশে ফের বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল Logo একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন Logo ‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’ Logo ইতিহাসে এবারই প্রথম নিরাপদে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সরকারকে ধন্যবাদ: পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট Logo ‘যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে ক্ষমতার জোরে সংবিধান সংশোধন টেকসই হবে না’ Logo রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ Logo বিরোধী দলকে গালাগালি করা ছাড়া বিএনপির আর কোনো যোগ্যতা নেই Logo পদোন্নতির দাবিতে মাউশিতে প্রভাষকদের অবস্থান কর্মসূচি Logo ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাত, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ভোটাররা এমন এক সময়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন যখন মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এই রাষ্ট্রে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে মোট সাতাশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটি চলবে রাত আটটা পর্যন্ত এবং প্রায় ছিয়াষট্টি লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে আগামী এক নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও সাংবিধানিকভাবে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে যা দেশের নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব রাখে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তার হাতে থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কার্যক্রমেও রাষ্ট্রপতির জোরালো ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাই এবারের নির্বাচনে দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হওয়া ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বুলগেরিয়ার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার সরাসরি মস্কোকে দায়ী করেনি, তবুও দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে যে এই ধরনের সংঘাত ও উত্তেজনা একতরফাভাবে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে।

নির্বাচনী মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত আন্দ্রে গিউরভ ইউক্রেনকে জোরালো সমর্থনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেভের আশীর্বাদপুষ্ট প্রার্থী ইলিয়ানা ইয়োতোভা তুলনামূলক নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা বলছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন। উল্লেখ্য যে বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে রাদেভকে মস্কোর প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হয় এবং বুলগেরীয় সমাজে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। সাধারণ জনগণের একটি অংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা তাদের প্রচারাভিযানে এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী ইলিয়ানা ইয়োতোভা এবং আন্দ্রে গিউরভ এগিয়ে থাকলেও তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি বুলগেরিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জ্বালানির চড়া দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনমনে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের নানাবিধ আশ্বাসের কথা প্রচার করছেন। তবে এসবের বাইরেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশটির সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রথম দফার এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বুলগেরিয়া আগামী দিনে পশ্চিমা জোটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক কতটা গভীর করবে নাকি পূর্ব ইউরোপের ভূরাজনীতিতে নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।

ট্যাগস :

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেব না

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

আপডেট সময় ০১:০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাত, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ভোটাররা এমন এক সময়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন যখন মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এই রাষ্ট্রে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে মোট সাতাশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটি চলবে রাত আটটা পর্যন্ত এবং প্রায় ছিয়াষট্টি লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে আগামী এক নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও সাংবিধানিকভাবে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে যা দেশের নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব রাখে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তার হাতে থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কার্যক্রমেও রাষ্ট্রপতির জোরালো ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাই এবারের নির্বাচনে দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হওয়া ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বুলগেরিয়ার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার সরাসরি মস্কোকে দায়ী করেনি, তবুও দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে যে এই ধরনের সংঘাত ও উত্তেজনা একতরফাভাবে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে।

নির্বাচনী মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত আন্দ্রে গিউরভ ইউক্রেনকে জোরালো সমর্থনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেভের আশীর্বাদপুষ্ট প্রার্থী ইলিয়ানা ইয়োতোভা তুলনামূলক নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা বলছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন। উল্লেখ্য যে বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে রাদেভকে মস্কোর প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হয় এবং বুলগেরীয় সমাজে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। সাধারণ জনগণের একটি অংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা তাদের প্রচারাভিযানে এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী ইলিয়ানা ইয়োতোভা এবং আন্দ্রে গিউরভ এগিয়ে থাকলেও তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি বুলগেরিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জ্বালানির চড়া দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনমনে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের নানাবিধ আশ্বাসের কথা প্রচার করছেন। তবে এসবের বাইরেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশটির সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রথম দফার এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বুলগেরিয়া আগামী দিনে পশ্চিমা জোটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক কতটা গভীর করবে নাকি পূর্ব ইউরোপের ভূরাজনীতিতে নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।