ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ভারতের আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না, বললেন অভিজিৎ দিপকে Logo মাদক পার্টি: সরানো হলো অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে Logo রাজধানী থেকে সাবেক দুই মেয়রসহ ৩ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo রণদাপ্রসাদ সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা Logo ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা Logo জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: শফিকুর রহমান Logo ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: শেখ রবিউল আলম Logo চার ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ৫ লাখ টাকা করে ফেরত পাবেন Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনই বিএনপির আদর্শ: প্রতিমন্ত্রী টুকু Logo প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল। সম্প্রতি তিন দিনের একটি সরকারি সফর শেষ করে এই জোরালো তাগিদ দেন আন্তর্জাতিক এই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা। নিজের এই সফরকালে তিনি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

সফর শেষে শিশুকল্যাণ নিশ্চিত করতে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো মূলੇ শিশুবিবাহ প্রথার অবসান ঘটিয়ে কন্যাসন্তানদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা, জাতীয় বাজেটের জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং শরণার্থী শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। রাজধানীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণের সময় তিনি দারিদ্র্য ও মৌলিক সেবার সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলা শিশুদের বাস্তব অবস্থা কাছ থেকে দেখেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে একটি বড় অংশের নারীর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা তাদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আইনি দুর্বলতাগুলো দূর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বাজেটে শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রশংসা করার পাশাপাশি ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

সফরের শেষ পর্যায়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বর্তমান পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। সংকটময় পরিস্থিতিতে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হলেও, আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতি থাকায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই জনগোষ্ঠীর পেছনে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিশুদের বিভিন্ন অপরাধমূলক ঝুঁকি ও শোষণ থেকে রক্ষা করার শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করা হয়।

সারাদেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের দোরগোড়ায় মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাচ্ছে শিশু বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, টিকাদান কর্মসূচি, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে বৈশ্বিক মানবিক তহবিলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জরুরি সেবাগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

ভারতের আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না, বললেন অভিজিৎ দিপকে

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

আপডেট সময় ১১:৩১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল। সম্প্রতি তিন দিনের একটি সরকারি সফর শেষ করে এই জোরালো তাগিদ দেন আন্তর্জাতিক এই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা। নিজের এই সফরকালে তিনি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

সফর শেষে শিশুকল্যাণ নিশ্চিত করতে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো মূলੇ শিশুবিবাহ প্রথার অবসান ঘটিয়ে কন্যাসন্তানদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা, জাতীয় বাজেটের জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং শরণার্থী শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। রাজধানীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণের সময় তিনি দারিদ্র্য ও মৌলিক সেবার সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলা শিশুদের বাস্তব অবস্থা কাছ থেকে দেখেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে একটি বড় অংশের নারীর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা তাদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আইনি দুর্বলতাগুলো দূর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বাজেটে শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রশংসা করার পাশাপাশি ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

সফরের শেষ পর্যায়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বর্তমান পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। সংকটময় পরিস্থিতিতে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হলেও, আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতি থাকায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই জনগোষ্ঠীর পেছনে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিশুদের বিভিন্ন অপরাধমূলক ঝুঁকি ও শোষণ থেকে রক্ষা করার শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করা হয়।

সারাদেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের দোরগোড়ায় মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাচ্ছে শিশু বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, টিকাদান কর্মসূচি, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে বৈশ্বিক মানবিক তহবিলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জরুরি সেবাগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।