ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo দশম গ্রেডসহ তিন দাবিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন Logo ধনীদের টেবিল ছেড়ে সাধারণের পাতে ক্যাভিয়ার, জেনে নিন রূপান্তরের কাহিনি Logo ঝিনাইদহে সারের ডিলারশিপ নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন Logo তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রবাসীর বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখলেন জামায়াত নেতা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন Logo সরকারকে নয়, এবার ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব: জামায়াত আমির Logo নিষিদ্ধ হলেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৬তম Logo অস্ত্রোপচারের পর বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন Logo লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা Logo দ্রুত বিয়ে হওয়ার ৫ আমল ও দোয়া
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

অস্ত্রোপচারের পর বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার পর অধিকাংশ রোগী তীব্র অস্বস্তি ও বমি ভাব বা বমির মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে পোস্ট-অপারেটিভ নসিয়া অ্যান্ড ভমিটিং বলা হয়ে থাকে, যা অনেক সময় অস্ত্রোপচারের ব্যথার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা দূর করার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন, যা সব সময় সমানভাবে কার্যকর হয় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও প্রাকৃতিক একটি সহজ সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, অপারেশন চলাকালীন রোগীর কানে বিশেষ নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন বা ইয়ার ডিফেন্ডার পরিয়ে রাখলে এই বমি ভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

অজ্ঞান করার ওষুধ বা অ্যানেস্থেসিয়া সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে গবেষকরা নতুন এই তথ্য সামনে এনেছেন। হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের গবেষক ভিগি ক্যাটলোউইটজসহ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অ্যানেস্থেসিয়া মোটেও ফ্যানের সুইচের মতো কোনো ‘অফ বাটন’ নয়। রোগী গভীর ঘুমে বা অবশ অবস্থায় থাকলেও তার মস্তিষ্ক চারপাশের নানা শব্দ ঠিকই প্রসেস করতে থাকে। চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের গবেষক হুয়াইউ লিউ এবং তার দল সম্প্রতি সান দিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এক অ্যানেসথেসিওলজি কনফারেন্সে এই বিষয়ে তাদের চাঞ্চল্যকর গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তাঁরা মূলত কোনো রাসায়নিক ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।

গবেষণাটি যাচাই করার জন্য ১৯২ জন নারী রোগীর ওপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়, যাদের বিশেষ অস্ত্রোপচার বা কিহোল সার্জারি হওয়ার কথা ছিল। গবেষকরা রোগীদের দুটি ভিন্ন দলে ভাগ করে এক দলকে অপারেশন চলাকালীন নয়েজ-ব্লকিং ইয়ার ডিফেন্ডার পরিয়ে রাখেন এবং অন্য দলকে তা থেকে বিরত রাখেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, অস্ত্রোপচারের পর যেসব রোগীর কানে হেডফোন ছিল, তাদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশের বমি বা বমি ভাব দেখা দিয়েছে। অথচ যাদের কানে হেডফোন ব্যবহার করা হয়নি, তাদের প্রায় ৫২ শতাংশই এই যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। এমনকি হেডফোন ব্যবহারকারী রোগীদের বমি ভাবের মাত্রা এতটাই কম ছিল যে তা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।

সাধারণত অপারেশন থিয়েটারকে পিনপতন নিস্তব্ধ জায়গা মনে হলেও সেখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মানুষের কথা বলার কারণে শব্দের গড় মাত্রা প্রায় ৬৬ ডেসিবল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চিকিৎসকদের কথাবার্তা, ধাতব যন্ত্রপাতির শব্দ এবং লাইফ-সাপোর্ট মনিটরের একটানা বিপ শব্দ মিলে সেখানে এক ধরনের হট্টগোল তৈরি হয়। এই বিকট শব্দগুলো অজ্ঞান থাকা রোগীর স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এই যান্ত্রিক শব্দ থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ যখন মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমের বমি নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোকে প্রভাবিত করে, তখনই অপারেশন শেষে রোগীর তীব্র বমি শুরু হয়। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এই সহজ কৌশলটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলে রোগীরা বড় ধরনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

ট্যাগস :

দশম গ্রেডসহ তিন দাবিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

অস্ত্রোপচারের পর বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন

আপডেট সময় ০৩:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার পর অধিকাংশ রোগী তীব্র অস্বস্তি ও বমি ভাব বা বমির মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে পোস্ট-অপারেটিভ নসিয়া অ্যান্ড ভমিটিং বলা হয়ে থাকে, যা অনেক সময় অস্ত্রোপচারের ব্যথার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা দূর করার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন, যা সব সময় সমানভাবে কার্যকর হয় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও প্রাকৃতিক একটি সহজ সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, অপারেশন চলাকালীন রোগীর কানে বিশেষ নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন বা ইয়ার ডিফেন্ডার পরিয়ে রাখলে এই বমি ভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

অজ্ঞান করার ওষুধ বা অ্যানেস্থেসিয়া সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে গবেষকরা নতুন এই তথ্য সামনে এনেছেন। হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের গবেষক ভিগি ক্যাটলোউইটজসহ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অ্যানেস্থেসিয়া মোটেও ফ্যানের সুইচের মতো কোনো ‘অফ বাটন’ নয়। রোগী গভীর ঘুমে বা অবশ অবস্থায় থাকলেও তার মস্তিষ্ক চারপাশের নানা শব্দ ঠিকই প্রসেস করতে থাকে। চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের গবেষক হুয়াইউ লিউ এবং তার দল সম্প্রতি সান দিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এক অ্যানেসথেসিওলজি কনফারেন্সে এই বিষয়ে তাদের চাঞ্চল্যকর গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তাঁরা মূলত কোনো রাসায়নিক ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।

গবেষণাটি যাচাই করার জন্য ১৯২ জন নারী রোগীর ওপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়, যাদের বিশেষ অস্ত্রোপচার বা কিহোল সার্জারি হওয়ার কথা ছিল। গবেষকরা রোগীদের দুটি ভিন্ন দলে ভাগ করে এক দলকে অপারেশন চলাকালীন নয়েজ-ব্লকিং ইয়ার ডিফেন্ডার পরিয়ে রাখেন এবং অন্য দলকে তা থেকে বিরত রাখেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, অস্ত্রোপচারের পর যেসব রোগীর কানে হেডফোন ছিল, তাদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশের বমি বা বমি ভাব দেখা দিয়েছে। অথচ যাদের কানে হেডফোন ব্যবহার করা হয়নি, তাদের প্রায় ৫২ শতাংশই এই যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। এমনকি হেডফোন ব্যবহারকারী রোগীদের বমি ভাবের মাত্রা এতটাই কম ছিল যে তা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।

সাধারণত অপারেশন থিয়েটারকে পিনপতন নিস্তব্ধ জায়গা মনে হলেও সেখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মানুষের কথা বলার কারণে শব্দের গড় মাত্রা প্রায় ৬৬ ডেসিবল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চিকিৎসকদের কথাবার্তা, ধাতব যন্ত্রপাতির শব্দ এবং লাইফ-সাপোর্ট মনিটরের একটানা বিপ শব্দ মিলে সেখানে এক ধরনের হট্টগোল তৈরি হয়। এই বিকট শব্দগুলো অজ্ঞান থাকা রোগীর স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এই যান্ত্রিক শব্দ থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ যখন মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমের বমি নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোকে প্রভাবিত করে, তখনই অপারেশন শেষে রোগীর তীব্র বমি শুরু হয়। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এই সহজ কৌশলটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলে রোগীরা বড় ধরনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবেন।