ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে কি কোনো প্রভাব পড়বে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সাইবার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিশিয়াল পোর্টালটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, গবেষক এবং বিভিন্ন ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক তথ্য, নীতিমালার প্রজ্ঞাপন ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে সাময়িক অসুবিধার মুখে পড়েছেন। তবে এই ওয়েবসাইটের সাময়িক অচলাবস্থার কারণে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বা দৈনন্দিন লেনদেনে বিন্দুমাত্র কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন যে দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে ওয়েবসাইটের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের কোনো প্রযুক্তিগত সংযোগ নেই। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেন বা সেবা পেতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটছে না এবং ব্যাংকিং খাত নিজস্ব গতিতেই সচল রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং সেখানে থাকা তথ্য বিকৃত করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে হ্যাকারদের কবলে গ্রাহকদের গোপনীয় তথ্য বা আর্থিক লেনদেনের ডেটা চলে যাবে। ব্যাংকের মূল লেনদেনগুলো সম্পূর্ণ আলাদা কোডিং ও একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবষ্টায় পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে সাধারণ ওয়েবসাইট হ্যাক বা বন্ধ হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সোর্স বা ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অফলাইনে নিয়ে যাওয়াটাই স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোও তাদের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইবার হামলার এই বৈশ্বিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সাবেক সভাপতি মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরীক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ত্রুটি পুরোপুরি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আপডেট সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব ওয়েবসাইট সচল করা উচিত। সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কেবল প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

গুড়ের চায়ের রেসিপি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে কি কোনো প্রভাব পড়বে

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সাইবার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিশিয়াল পোর্টালটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, গবেষক এবং বিভিন্ন ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক তথ্য, নীতিমালার প্রজ্ঞাপন ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে সাময়িক অসুবিধার মুখে পড়েছেন। তবে এই ওয়েবসাইটের সাময়িক অচলাবস্থার কারণে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বা দৈনন্দিন লেনদেনে বিন্দুমাত্র কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন যে দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে ওয়েবসাইটের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের কোনো প্রযুক্তিগত সংযোগ নেই। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেন বা সেবা পেতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটছে না এবং ব্যাংকিং খাত নিজস্ব গতিতেই সচল রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং সেখানে থাকা তথ্য বিকৃত করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে হ্যাকারদের কবলে গ্রাহকদের গোপনীয় তথ্য বা আর্থিক লেনদেনের ডেটা চলে যাবে। ব্যাংকের মূল লেনদেনগুলো সম্পূর্ণ আলাদা কোডিং ও একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবষ্টায় পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে সাধারণ ওয়েবসাইট হ্যাক বা বন্ধ হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সোর্স বা ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অফলাইনে নিয়ে যাওয়াটাই স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোও তাদের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইবার হামলার এই বৈশ্বিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সাবেক সভাপতি মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরীক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ত্রুটি পুরোপুরি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আপডেট সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব ওয়েবসাইট সচল করা উচিত। সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কেবল প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।