আপডেট সময়
০৮:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
০
বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন: বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না
জাতীয় ডেস্ক: অস্ত্র প্রদর্শন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার জেরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি বের করেছিলেন, তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানামুখী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স করা অস্ত্রের অপব্যবহারের সংস্কৃতি চলে আসছে। অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বহুবার প্রকাশ্যে বৈধ অস্ত্র বেআইনিভাবে প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করা গেলেও তা দিয়ে জনমনে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এমন শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিলযোগ্য হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে আইন লঙ্ঘন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বললেই চলে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শনের অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নামমাত্র তদন্ত করেই দায় সেরেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রনেতাদের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় পুলিশ অস্ত্রগুলো সাময়িকভাবে জমা রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা লাইসেন্স বাতিলের জন্যও জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো সুপারিশমূলক প্রতিবেদন পাঠায়নি। একইভাবে বিগত সরকারের আমলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের অনুসারীদের অনেকেই জনসমক্ষে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিলেও পুলিশ কেবল দায়সারা ব্যাখ্যা চেয়েই খালাস পেয়েছে। ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া কিংবা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে বৈধ অস্ত্রের বেআইনি প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ার কারণেই এই অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার অর্থ এই নয় যে যখন-তখন জনসমক্ষে তা প্রদর্শন করে ত্রাস সৃষ্টি করা যাবে। আত্মরক্ষার নামে অস্ত্র বহন এবং প্রকাশ্যে তা উঁচিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হলে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, ঠিক তেমনি শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বেআইনি অস্ত্রের প্রদর্শন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় ডেস্ক: অস্ত্র প্রদর্শন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার জেরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি বের করেছিলেন, তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানামুখী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স করা অস্ত্রের অপব্যবহারের সংস্কৃতি চলে আসছে। অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বহুবার প্রকাশ্যে বৈধ অস্ত্র বেআইনিভাবে প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করা গেলেও তা দিয়ে জনমনে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এমন শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিলযোগ্য হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে আইন লঙ্ঘন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শনের অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নামমাত্র তদন্ত করেই দায় সেরেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রনেতাদের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় পুলিশ অস্ত্রগুলো সাময়িকভাবে জমা রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা লাইসেন্স বাতিলের জন্যও জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো সুপারিশমূলক প্রতিবেদন পাঠায়নি। একইভাবে বিগত সরকারের আমলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের অনুসারীদের অনেকেই জনসমক্ষে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিলেও পুলিশ কেবল দায়সারা ব্যাখ্যা চেয়েই খালাস পেয়েছে। ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া কিংবা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে বৈধ অস্ত্রের বেআইনি প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ার কারণেই এই অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার অর্থ এই নয় যে যখন-তখন জনসমক্ষে তা প্রদর্শন করে ত্রাস সৃষ্টি করা যাবে। আত্মরক্ষার নামে অস্ত্র বহন এবং প্রকাশ্যে তা উঁচিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হলে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, ঠিক তেমনি শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বেআইনি অস্ত্রের প্রদর্শন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।