ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, কেন ফুঁসছে জেন–জি? Logo মধ্যপ্রাচ্যে ভেতরে-ভেতরে ‘লিবারেল বিপ্লব’ Logo বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ কতদূর? Logo নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার Logo মাদক কারবার: দম্পতির ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি লেনদেন Logo ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী লুলা Logo মাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল Logo সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ Logo সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ পাসপোর্ট Logo জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক: রাশিয়ার ইতিহাসের এক চরম অস্থির ও পরিবর্তনের সময়ে কিয়েভের পটভূমিতে রচিত হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’। বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে চারপাশের পরিচিত পৃথিবী যখন ভেঙে পড়ছে, তখন একটি শিক্ষিত পরিবার নিজেদের ঘরের ভেতর পুরোনো মূল্যবোধ বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রুশ লেখক মিখাইল বুলগাকভ এই উপন্যাসটিকে নাটকে রূপ দেন, যার নাম রাখা হয় ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। কঠিন শর্ত এবং রাজনৈতিক সেন্সরশিপের বেড়াজাল পেরিয়ে গত শতাব্দীর বিশের দশকে মস্কোর মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছিল এই আলোচিত নাটকটি।

বিপ্লবের ঠিক পরের ওই সময়ে বলশেভিকদের বিরোধী বা শ্বেতরক্ষীদের প্রতি সহানুভূতিশীল চরিত্রগুলোকে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। নাটকের কুশীলবরা যাতে পরাজিত পক্ষের মানুষের দুঃখ-কষ্ট মানবিক উপায়ে ফুটিয়ে তুলতে না পারেন, সেজন্য শুরু থেকেই সরকারি মহল ও গোপন পুলিশ সংস্থার পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। প্রথম প্রদর্শনী সামনে রেখে কঠোর গোপনীয়তা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট থিয়েটারে নাটকটি দেখানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রথম মাসেই নাটকটির একাধিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

দর্শকদের তুমুল আগ্রহ ও ভিড় সত্ত্বেও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ নাটকটির তীব্র সমালোচনা করে একে শ্বেতরক্ষীদের মহিমান্বিত করার মাধ্যম হিসেবে অভিযুক্ত করে। তবে এই রাজনৈতিক মতবিরোধের মাঝেও তৎকালীন সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন নাটকটির প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখান। ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিপত্র অনুযায়ী তিনি নিজে একাধিকবার নাটকটি উপভোগ করেছিলেন এবং এর রাজনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে নিজের মতামতও ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর মতে, বলশেভিকবিরোধী চরিত্রগুলোও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় নাটকটি প্রকারান্তরে বিপ্লবের বিজয়কেই জোরালো করেছে।

স্তালিনের বিশেষ আগ্রহ ও দর্শকপ্রিয়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কোপানল থেকে রক্ষা পায়নি এই প্রযোজনাটি এবং একপর্যায়ে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের সংকট এবং নাটকের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন এই মঞ্চায়ন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার জাল ভেদ করে নাটকটি আবার মঞ্চে ফিরে আসে এবং সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বার প্রদর্শিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। পরিশেষে ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাই ও যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় প্রযোজনাটির ইতি ঘটলেও বুলগাকভের এই সৃষ্টি বিশ্ব নাট্যসাহিত্যে এক অমর নিদর্শন হয়ে রয়েছে।

ট্যাগস :

ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, কেন ফুঁসছে জেন–জি?

নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার

আপডেট সময় ০৭:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক: রাশিয়ার ইতিহাসের এক চরম অস্থির ও পরিবর্তনের সময়ে কিয়েভের পটভূমিতে রচিত হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’। বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে চারপাশের পরিচিত পৃথিবী যখন ভেঙে পড়ছে, তখন একটি শিক্ষিত পরিবার নিজেদের ঘরের ভেতর পুরোনো মূল্যবোধ বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রুশ লেখক মিখাইল বুলগাকভ এই উপন্যাসটিকে নাটকে রূপ দেন, যার নাম রাখা হয় ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। কঠিন শর্ত এবং রাজনৈতিক সেন্সরশিপের বেড়াজাল পেরিয়ে গত শতাব্দীর বিশের দশকে মস্কোর মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছিল এই আলোচিত নাটকটি।

বিপ্লবের ঠিক পরের ওই সময়ে বলশেভিকদের বিরোধী বা শ্বেতরক্ষীদের প্রতি সহানুভূতিশীল চরিত্রগুলোকে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। নাটকের কুশীলবরা যাতে পরাজিত পক্ষের মানুষের দুঃখ-কষ্ট মানবিক উপায়ে ফুটিয়ে তুলতে না পারেন, সেজন্য শুরু থেকেই সরকারি মহল ও গোপন পুলিশ সংস্থার পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। প্রথম প্রদর্শনী সামনে রেখে কঠোর গোপনীয়তা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট থিয়েটারে নাটকটি দেখানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রথম মাসেই নাটকটির একাধিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

দর্শকদের তুমুল আগ্রহ ও ভিড় সত্ত্বেও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ নাটকটির তীব্র সমালোচনা করে একে শ্বেতরক্ষীদের মহিমান্বিত করার মাধ্যম হিসেবে অভিযুক্ত করে। তবে এই রাজনৈতিক মতবিরোধের মাঝেও তৎকালীন সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন নাটকটির প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখান। ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিপত্র অনুযায়ী তিনি নিজে একাধিকবার নাটকটি উপভোগ করেছিলেন এবং এর রাজনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে নিজের মতামতও ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর মতে, বলশেভিকবিরোধী চরিত্রগুলোও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় নাটকটি প্রকারান্তরে বিপ্লবের বিজয়কেই জোরালো করেছে।

স্তালিনের বিশেষ আগ্রহ ও দর্শকপ্রিয়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কোপানল থেকে রক্ষা পায়নি এই প্রযোজনাটি এবং একপর্যায়ে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের সংকট এবং নাটকের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন এই মঞ্চায়ন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার জাল ভেদ করে নাটকটি আবার মঞ্চে ফিরে আসে এবং সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বার প্রদর্শিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। পরিশেষে ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাই ও যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় প্রযোজনাটির ইতি ঘটলেও বুলগাকভের এই সৃষ্টি বিশ্ব নাট্যসাহিত্যে এক অমর নিদর্শন হয়ে রয়েছে।