ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

নদী কেড়েছে জমি, ঝড় কেড়ে নিল ঘরঃ অসহায় জসিমের আহাজারি

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কৃষক জসিম উদ্দিন এখন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

জানা গেছে, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় মেঘনা নদীর ভাঙনে নিজের বসতভিটা হারান। পরে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিলেও বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন। সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশের খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

 

কিন্তু গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তাদের সেই শেষ আশ্রয়। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের টিন উড়ে যায়, বাঁশ ভেঙে পড়ে এবং পুরো ঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে একসময় ছিল ছোট্ট একটি বসতঘর, সেখানে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ ও বিধ্বস্ত ঘরের বিভিন্ন অংশ। খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে পরিবারের ব্যবহার্য সামগ্রী।

 

ঝড়ের চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তার।

 

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়।”

 

অসহায় জসিম উদ্দিন বলেন,“নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি। শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে এমন অনেক পরিবার বছরের পর বছর নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। কিন্তু একের পর এক দুর্যোগে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ভুক্তভোগী পরিবারটির জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন,“বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিকল্পিত হত্যা; না দুর্ঘটনাঃ অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের 

নদী কেড়েছে জমি, ঝড় কেড়ে নিল ঘরঃ অসহায় জসিমের আহাজারি

আপডেট সময় ০৭:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কৃষক জসিম উদ্দিন এখন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

জানা গেছে, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় মেঘনা নদীর ভাঙনে নিজের বসতভিটা হারান। পরে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিলেও বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন। সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশের খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

 

কিন্তু গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তাদের সেই শেষ আশ্রয়। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের টিন উড়ে যায়, বাঁশ ভেঙে পড়ে এবং পুরো ঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে একসময় ছিল ছোট্ট একটি বসতঘর, সেখানে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ ও বিধ্বস্ত ঘরের বিভিন্ন অংশ। খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে পরিবারের ব্যবহার্য সামগ্রী।

 

ঝড়ের চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তার।

 

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়।”

 

অসহায় জসিম উদ্দিন বলেন,“নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি। শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে এমন অনেক পরিবার বছরের পর বছর নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। কিন্তু একের পর এক দুর্যোগে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ভুক্তভোগী পরিবারটির জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন,“বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।