ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

কুপিয়ে হত্যার পর দুর্ঘটনা নাটকঃ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ঘটনাস্থলের পাশে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং আরও দুইজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর-মহাম্মদপুর গ্রান্ডট্রাংক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা গোলাম ছরোয়ার শেখের ছেলে রবিউল শেখ (৩৬)।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটখোলারচর গ্রামের হাফিজ শেখের ছেলে শহিদুলের বাড়িতে তার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম এবং নিহত রবিউল শেখ মোটরসাইকেল নিতে যান। এ সময় একটি শালিস বৈঠকে মোটরসাইকেল দেওয়া-না-দেওয়া নিয়ে জামাই শহিদুল শেখ ও শ্বশুর শহিদুল ইসলামের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শহিদুল ও রবিউল সেখান থেকে চলে যান। পরে জামাইয়ের ফোন পেয়ে তারা পুনরায় ওই বাড়িতে গেলে এরপরই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয় বলে তাদের দাবি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

 

নিহতের পিতা গোলাম ছরোয়ার শেখ বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে শহিদুল ইসলাম তার জামাইয়ের বাড়িতে মোটরসাইকেল আনতে যায়। সেখানে তর্ক-বিতর্কের পর আমার ছেলেকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ হত্যার সঠিক বিচার চাই। তিনি জানান, রবিউল একজন কৃষক ছিলেন এবং তার স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে একটি প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা গাড়িটি উদ্ধারে গেলে পাশেই একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। ধারণা করা হয়, হত্যার পর লাশ ফেলে পালানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ সময় উত্তেজিত জনতা গাড়িতে থাকা দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

 

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিকল্পিত হত্যা; না দুর্ঘটনাঃ অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের 

কুপিয়ে হত্যার পর দুর্ঘটনা নাটকঃ আটক ৪

আপডেট সময় ০৬:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ঘটনাস্থলের পাশে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং আরও দুইজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর-মহাম্মদপুর গ্রান্ডট্রাংক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা গোলাম ছরোয়ার শেখের ছেলে রবিউল শেখ (৩৬)।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটখোলারচর গ্রামের হাফিজ শেখের ছেলে শহিদুলের বাড়িতে তার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম এবং নিহত রবিউল শেখ মোটরসাইকেল নিতে যান। এ সময় একটি শালিস বৈঠকে মোটরসাইকেল দেওয়া-না-দেওয়া নিয়ে জামাই শহিদুল শেখ ও শ্বশুর শহিদুল ইসলামের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শহিদুল ও রবিউল সেখান থেকে চলে যান। পরে জামাইয়ের ফোন পেয়ে তারা পুনরায় ওই বাড়িতে গেলে এরপরই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয় বলে তাদের দাবি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

 

নিহতের পিতা গোলাম ছরোয়ার শেখ বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে শহিদুল ইসলাম তার জামাইয়ের বাড়িতে মোটরসাইকেল আনতে যায়। সেখানে তর্ক-বিতর্কের পর আমার ছেলেকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ হত্যার সঠিক বিচার চাই। তিনি জানান, রবিউল একজন কৃষক ছিলেন এবং তার স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে একটি প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা গাড়িটি উদ্ধারে গেলে পাশেই একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। ধারণা করা হয়, হত্যার পর লাশ ফেলে পালানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ সময় উত্তেজিত জনতা গাড়িতে থাকা দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

 

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানান।