ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি Logo বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন Logo দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিরলস কাজ করছে পুলিশ: আইজিপি Logo মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: আইজিপি Logo ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ‘ক্যাশিয়ার’ নিয়েও প্রশ্ন Logo ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশ Logo ‘এমপি হলে প্রথম কাজ খোলাবাজারে সার বিক্রি’ Logo সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর Logo ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব Logo ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়তে পারি, ক্ষমতার জন্য ইসলাম নয়: ফয়জুল করীম
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যাতে কোনোভাবেই এই মাটিতে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সমাজের নানা স্তরে ধর্মের নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে, তা প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠক চলাকালীন সময়ে বিগত দিনে ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম সমাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় আলেম-ওলামাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর অনুরাগ ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন। পাশাপাশি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি তিনিই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলে তিনি উপস্থিত অতিথিদের জানান।

নিজেকে বর্তমানে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী মূল্যবোধ কিংবা শরিয়তের বিধিবিধানের ওপর আঘাত আসে এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে কেউ না করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকবেন। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ধনী রাষ্ট্রগুলো থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদান সহায়তা দেশে আনার প্রস্তাব দেন। এই লক্ষে নিজেদের আরবি ভাষা জানা ও যোগাযোগের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাষ্ট্রপতি তাদের সাধুবাদ জানান এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের বিখ্যাত হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণের জবাবে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে উল্লেখিত মাদ্রাসাগুলো পরিদর্শন করাসহ হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। দেশের আলেম সমাজের সঙ্গে রাষ্ট্রের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা দেশের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

ট্যাগস :

উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যাতে কোনোভাবেই এই মাটিতে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সমাজের নানা স্তরে ধর্মের নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে, তা প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠক চলাকালীন সময়ে বিগত দিনে ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম সমাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় আলেম-ওলামাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর অনুরাগ ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন। পাশাপাশি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি তিনিই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলে তিনি উপস্থিত অতিথিদের জানান।

নিজেকে বর্তমানে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী মূল্যবোধ কিংবা শরিয়তের বিধিবিধানের ওপর আঘাত আসে এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে কেউ না করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকবেন। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ধনী রাষ্ট্রগুলো থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদান সহায়তা দেশে আনার প্রস্তাব দেন। এই লক্ষে নিজেদের আরবি ভাষা জানা ও যোগাযোগের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাষ্ট্রপতি তাদের সাধুবাদ জানান এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের বিখ্যাত হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণের জবাবে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে উল্লেখিত মাদ্রাসাগুলো পরিদর্শন করাসহ হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। দেশের আলেম সমাজের সঙ্গে রাষ্ট্রের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা দেশের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।