ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সংগ্রাম থেকে উত্তরণের স্বপ্ন Logo গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে এক মুসলিম-প্রধান দেশ Logo দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক Logo টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল Logo ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত Logo ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ Logo অর্থনীতির নোবেল ২০২৬: সংকট, প্রত্যাশা ও বিশ্বাসযোগ্য নীতির পাঠ Logo যুগান্তরের বার্তা বহন: খবরের রাজ্যে দেবী দুর্গা Logo বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি, প্রস্তুতি শুরু করবেন যেভাবে Logo রিকশাচিত্রে স্বাস্থ্যশিক্ষা, রামপালের এক উদ্ভাবনী উদ্যোগ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রবারণা পূর্ণিমার দীর্ঘ ছুটির সুবাদে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে ভ্রমণপিপাসুদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। সম্প্রতি কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ পুরো সৈকত এলাকা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। ছুটির এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে সৈকত চত্বরে চলছে বিভিন্ন উৎসবের প্রস্তুতি। পর্যটকদের এই আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটন খাতের সাথে জড়িত সবার মাঝেই ফিরে এসেছে দারুণ কর্মচাঞ্চল্য। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বালুচরে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ক্যামেরাবন্দি করছেন সমুদ্রের মনোরম মুহূর্তগুলো। দীর্ঘ ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকরা মেরিন ড্রাইভসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন।

চলতি সপ্তাহের এই ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে রুম বুকিংয়ের হার বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোটেল মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের অন্তত ৯০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পাঁচতারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে মাঝারি মানের গেস্টহাউস—সবখানেই এখন অতিথিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কক্সবাজার শহর ও এর আশপাশে অবস্থিত পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটকের একসঙ্গে রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ছুটির দিনগুলোতে এই ব্যস্ততা বজায় থাকবে এবং পর্যটন খাত বিগত দিনের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কিছু পর্যটকের মধ্যে সামান্য অস্বস্তি কাজ করছে। অনেকে মেরিন ড্রাইভের নির্জন কটেজের পরিবর্তে শহরের মূল এলাকার হোটেলগুলোতে অবস্থান করা নিরাপদ মনে করছেন, যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট রিসোর্টে বুকিং কিছুটা কমেছে।

এদিকে, বিশ্বখ্যাত এই সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতে নিয়োজিত বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দিনভর সতর্ক অবস্থানে থেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার পর্যটক সৈকতে নেমে আনন্দ উপভোগ করছেন এবং সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত কর্মীরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছেন যাতে ভ্রমণকারীরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। বিশেষ করে বিজয়া দশমী উপলক্ষে লাবণী পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক কক্সবাজারে উপস্থিত হয়েছেন। এই বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

দূর-দূরত্ব থেকে আসা ভ্রমণকারীরা কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ময়মনসিংহের এক পর্যটক পরিবারসহ প্রথমবার এখানে এসে সমুদ্রের নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করে দারুণ আনন্দিত বলে জানিয়েছেন। একইভাবে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা তরুণ পর্যটকরা পাহাড় ও সাগরের অনন্য এই মিলনমেলায় এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পর্যটন খাতের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হোটেল মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। সব মিলিয়ে এই দীর্ঘ ছুটি কক্সবাজারের অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

ট্যাগস :

সংগ্রাম থেকে উত্তরণের স্বপ্ন

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

আপডেট সময় ০৯:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রবারণা পূর্ণিমার দীর্ঘ ছুটির সুবাদে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে ভ্রমণপিপাসুদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। সম্প্রতি কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ পুরো সৈকত এলাকা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। ছুটির এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে সৈকত চত্বরে চলছে বিভিন্ন উৎসবের প্রস্তুতি। পর্যটকদের এই আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটন খাতের সাথে জড়িত সবার মাঝেই ফিরে এসেছে দারুণ কর্মচাঞ্চল্য। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বালুচরে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ক্যামেরাবন্দি করছেন সমুদ্রের মনোরম মুহূর্তগুলো। দীর্ঘ ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকরা মেরিন ড্রাইভসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন।

চলতি সপ্তাহের এই ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে রুম বুকিংয়ের হার বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোটেল মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের অন্তত ৯০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পাঁচতারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে মাঝারি মানের গেস্টহাউস—সবখানেই এখন অতিথিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কক্সবাজার শহর ও এর আশপাশে অবস্থিত পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটকের একসঙ্গে রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ছুটির দিনগুলোতে এই ব্যস্ততা বজায় থাকবে এবং পর্যটন খাত বিগত দিনের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কিছু পর্যটকের মধ্যে সামান্য অস্বস্তি কাজ করছে। অনেকে মেরিন ড্রাইভের নির্জন কটেজের পরিবর্তে শহরের মূল এলাকার হোটেলগুলোতে অবস্থান করা নিরাপদ মনে করছেন, যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট রিসোর্টে বুকিং কিছুটা কমেছে।

এদিকে, বিশ্বখ্যাত এই সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতে নিয়োজিত বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দিনভর সতর্ক অবস্থানে থেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার পর্যটক সৈকতে নেমে আনন্দ উপভোগ করছেন এবং সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত কর্মীরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছেন যাতে ভ্রমণকারীরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। বিশেষ করে বিজয়া দশমী উপলক্ষে লাবণী পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক কক্সবাজারে উপস্থিত হয়েছেন। এই বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

দূর-দূরত্ব থেকে আসা ভ্রমণকারীরা কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ময়মনসিংহের এক পর্যটক পরিবারসহ প্রথমবার এখানে এসে সমুদ্রের নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করে দারুণ আনন্দিত বলে জানিয়েছেন। একইভাবে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা তরুণ পর্যটকরা পাহাড় ও সাগরের অনন্য এই মিলনমেলায় এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পর্যটন খাতের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হোটেল মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। সব মিলিয়ে এই দীর্ঘ ছুটি কক্সবাজারের অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।