ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস Logo জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ Logo সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি Logo মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন, বার কাউন্সিলের ‘না’ Logo রং, নকশা, বুননে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম Logo জাপানের উইক ও গ্রামীণ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ‘গ্রামীণ-উইক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা Logo শ্রীমঙ্গল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা Logo বিদেশযাত্রার আগে চাকরি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী Logo বইয়ের পাতায় স্বপ্ন আর সুস্থতায় দিনযাপন Logo ‎ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল সরকার, ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। মুমূর্ষু রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার থেকে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ কোটি টাকার মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর এই সেবা বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত থেকে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ রোগীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ইউনিটে নিয়মিত সেবা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যে ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং সহায়ক জনবল প্রয়োজন, তার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে সরঞ্জাম এসে পৌঁছানোর পরও এখন পর্যন্ত ইউনিটটি চালু করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় ভোলা জেলার মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ঢাকা কিংবা বরিশালের হাসপাতালে ছুটতে হয়। প্রায়ই বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসকষ্ট ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সঠিক সময়ে আইসিইউ সেবা না পেয়ে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়, যা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের এই দুর্দশার প্রতিবাদে এবং দ্রুত আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবিতে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, সময়মতো আইসিইউ সেবা না পাওয়ার কারণে তাঁর অসুস্থ বাবাকে হারাতে হয়েছে এবং এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার যেন আর কাউকে হতে না হয়। আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে অন্য এক স্বজন জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তাঁর এক আত্মীয়কে ভোলা থেকে বরিশালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু হয়েছিল। সাধারণ মানুষের এমন অসংখ্য অভিযোগ ও আকুতি সত্ত্বেও জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউ ইউনিটের প্রধান কাচের দরজায় বড় দুটি তালা ঝুলছে এবং ভেতরে থাকা আধুনিক শয্যাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালুর আস্তরণ জমেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোড় আরাফাতুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আইসিইউ সেবা না থাকায় প্রায়ই গুরুতর রোগীদের অন্য জেলায় রেফার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা না হলে সরকারের কোটি টাকার এই চিকিৎসাসামগ্রী পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :

আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস

জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ

আপডেট সময় ১২:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। মুমূর্ষু রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার থেকে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ কোটি টাকার মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর এই সেবা বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত থেকে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ রোগীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ইউনিটে নিয়মিত সেবা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যে ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং সহায়ক জনবল প্রয়োজন, তার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে সরঞ্জাম এসে পৌঁছানোর পরও এখন পর্যন্ত ইউনিটটি চালু করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় ভোলা জেলার মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ঢাকা কিংবা বরিশালের হাসপাতালে ছুটতে হয়। প্রায়ই বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসকষ্ট ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সঠিক সময়ে আইসিইউ সেবা না পেয়ে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়, যা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের এই দুর্দশার প্রতিবাদে এবং দ্রুত আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবিতে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, সময়মতো আইসিইউ সেবা না পাওয়ার কারণে তাঁর অসুস্থ বাবাকে হারাতে হয়েছে এবং এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার যেন আর কাউকে হতে না হয়। আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে অন্য এক স্বজন জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তাঁর এক আত্মীয়কে ভোলা থেকে বরিশালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু হয়েছিল। সাধারণ মানুষের এমন অসংখ্য অভিযোগ ও আকুতি সত্ত্বেও জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউ ইউনিটের প্রধান কাচের দরজায় বড় দুটি তালা ঝুলছে এবং ভেতরে থাকা আধুনিক শয্যাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালুর আস্তরণ জমেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোড় আরাফাতুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আইসিইউ সেবা না থাকায় প্রায়ই গুরুতর রোগীদের অন্য জেলায় রেফার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা না হলে সরকারের কোটি টাকার এই চিকিৎসাসামগ্রী পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।