ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি, পদ ৩৯ Logo জনবল নিয়োগ হয়নি, প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জুলাই জাদুঘর Logo ফেসবুকে বিএনপি নেতার পোস্ট: ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’ Logo আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর Logo হানিফ পাপ্পুর তুলিতে রিকশাচিত্রের নতুন জীবন Logo যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা Logo চলতি অধিবেশনেই বাংলাদেশ সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি পাসের উদ্যোগ, কার্যকর আগামী বছরের প্রথমার্ধে Logo বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার পথ কি সত্যিই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে Logo সরকার কি পথ হারাচ্ছে
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সরকার কি পথ হারাচ্ছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর দেশের সাধারণ মানুষ একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। হাজারো মানুষের প্রাণহানি এবং অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে অর্জিত সেই পরিবর্তনের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া নিয়ে বর্তমানে সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলেও দ্রুতই তাদের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জনগণের বিশাল প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা শুরু থেকেই বেশ কিছু হোঁচট খেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অতিরিক্ত জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসার পর এত অল্প সময়ে সরকারের এমন সমালোচনা অতীতে বিরল ঘটনাই বটে। গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারের বদলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মনে হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

বর্তমান সরকারের পথচলা হোঁচট খাওয়ার পেছনে যে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গণভোটের রায় ও মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে দলটির অবস্থান। অতীতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমান প্রশাসন সেই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। বরং বিগত দিনে গণভোটের পক্ষে জোরালো ভূমিকা না রেখে কৌশলী অবস্থান নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা রাজনৈতিক মহলে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় মৌলিক রূপান্তরের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে একপ্রকার পাশ কাটানোর এই প্রবণতা দেশবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়াকে চরমভাবে হতাশ করেছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দখল ও নানা ধরনের দুর্নীতি রোধে সরকারের ব্যর্থতা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দলীয় নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন তালিকা ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দলীয় প্রভাবে ঘটিত অপরাধের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এমনকি সরকারি দলের মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের সামগ্রিক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

প্রশাসনিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের ধারা এবং জননিরাপত্তার অবনতি বর্তমান সরকারের ইমেজ সংকটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার সংস্থায় দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। গত কয়েক মাসে খুন, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসন তা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। সরকারি পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা অপরাধের এই চিত্র জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং বিতর্কিত ডিজিটাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের পথেই হাঁটার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সরকারের সমালোচনাকারীদের দমন করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আদলে নতুন ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং মামলার শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ায় এবং গণমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের হামলা ও আইনি পদক্ষেপের কারণে মত প্রকাশের পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অথচ বর্তমান সরকারের আমলে তার বিপরীত চিত্রই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি, পদ ৩৯

সরকার কি পথ হারাচ্ছে

আপডেট সময় ০৮:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর দেশের সাধারণ মানুষ একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। হাজারো মানুষের প্রাণহানি এবং অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে অর্জিত সেই পরিবর্তনের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া নিয়ে বর্তমানে সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলেও দ্রুতই তাদের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জনগণের বিশাল প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা শুরু থেকেই বেশ কিছু হোঁচট খেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অতিরিক্ত জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসার পর এত অল্প সময়ে সরকারের এমন সমালোচনা অতীতে বিরল ঘটনাই বটে। গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারের বদলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মনে হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

বর্তমান সরকারের পথচলা হোঁচট খাওয়ার পেছনে যে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গণভোটের রায় ও মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে দলটির অবস্থান। অতীতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমান প্রশাসন সেই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। বরং বিগত দিনে গণভোটের পক্ষে জোরালো ভূমিকা না রেখে কৌশলী অবস্থান নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা রাজনৈতিক মহলে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় মৌলিক রূপান্তরের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে একপ্রকার পাশ কাটানোর এই প্রবণতা দেশবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়াকে চরমভাবে হতাশ করেছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দখল ও নানা ধরনের দুর্নীতি রোধে সরকারের ব্যর্থতা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দলীয় নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন তালিকা ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দলীয় প্রভাবে ঘটিত অপরাধের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এমনকি সরকারি দলের মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের সামগ্রিক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

প্রশাসনিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের ধারা এবং জননিরাপত্তার অবনতি বর্তমান সরকারের ইমেজ সংকটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার সংস্থায় দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। গত কয়েক মাসে খুন, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসন তা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। সরকারি পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা অপরাধের এই চিত্র জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং বিতর্কিত ডিজিটাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের পথেই হাঁটার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সরকারের সমালোচনাকারীদের দমন করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আদলে নতুন ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং মামলার শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ায় এবং গণমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের হামলা ও আইনি পদক্ষেপের কারণে মত প্রকাশের পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অথচ বর্তমান সরকারের আমলে তার বিপরীত চিত্রই বেশি দেখা যাচ্ছে।