ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ১০০-র পর ২০০ মিটারেও সোনা জিতলেন ইমরানুর ও শিরিন Logo পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার Logo ঢাকায় ৫ নভেম্বর এআই বিজনেস সামিট, অংশ নেবে শতাধিক স্টার্টআপ Logo অসংক্রামক রোগের বড় কারণ খাবারে ভেজাল Logo জাবিতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি, মানতে হবে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা Logo জমানো খাবারে বানানো কেকেও ছাড় নেই, বন্দিদের জীবন নরক বানানোর হুমকি বেন গভিরের Logo জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করলেন বিমান বাহিনী প্রধান Logo পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, জ্যেষ্ঠতায় ওপরে থাকবেন ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা Logo রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে পীরগঞ্জের ইউএনওকে ঘিরে ক্ষোভ Logo তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাইছি: নাহিদ ইসলাম
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

‘শালা–সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল’, বিচারকের প্রশ্নে বললেন আসামি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

অপরাধ ডেস্ক: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের পক্ষ থেকে আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া সাত আসামি হলেন মো. মফিজুল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম, এস এম এমদাদুল রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নূর মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিস সহায়ক, জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুল কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক এবং রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত। বাকি দুজন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করেছিল এই চক্রটি।

আসামিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাগজপত্র ও আর্থিক দলিলপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের কাছ থেকে একশ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি মূল সনদ, ৪০ জনের অধিক প্রার্থীর ব্যাংক চেকের পাতা এবং চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে এবং এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

আদালতে শুনানিকালে বিচারক আসামিদের কাছে জব্দকৃত আলামতের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামের কাছে বিপুল পরিমাণ চেক ও প্রবেশপত্র পাওয়ার বিষয়ে বিচারক জানতে চাইলে তিনি জানান যে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও শালা-সম্বন্ধীরা পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে সরকারি চাকরিতে থেকে ব্যবসা করা এবং অন্যের নথিপত্র রাখার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

ট্যাগস :

১০০-র পর ২০০ মিটারেও সোনা জিতলেন ইমরানুর ও শিরিন

‘শালা–সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল’, বিচারকের প্রশ্নে বললেন আসামি

আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের পক্ষ থেকে আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া সাত আসামি হলেন মো. মফিজুল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম, এস এম এমদাদুল রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নূর মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিস সহায়ক, জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুল কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক এবং রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত। বাকি দুজন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করেছিল এই চক্রটি।

আসামিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাগজপত্র ও আর্থিক দলিলপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের কাছ থেকে একশ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি মূল সনদ, ৪০ জনের অধিক প্রার্থীর ব্যাংক চেকের পাতা এবং চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে এবং এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

আদালতে শুনানিকালে বিচারক আসামিদের কাছে জব্দকৃত আলামতের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামের কাছে বিপুল পরিমাণ চেক ও প্রবেশপত্র পাওয়ার বিষয়ে বিচারক জানতে চাইলে তিনি জানান যে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও শালা-সম্বন্ধীরা পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে সরকারি চাকরিতে থেকে ব্যবসা করা এবং অন্যের নথিপত্র রাখার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।