আপডেট সময়
০৮:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩
বার পড়া হয়েছে
শহরের বাইরেই হোক সচিবালয়
জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয় আবদুল গণি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় তিন হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এটি এখন আর কেবল আলোচনার পর্যায়ে সীমিত নেই। তবে এই বিশাল ব্যয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ কতটা কমাতে পারবে এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে।প্রস্তাবিত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র সমালোচনা করছেন। শেরেবাংলা নগরের ওই এলাকার চারপাশে ইতিমধ্যে একাধিক বড় হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীর যাতায়াত শুরু হলে এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, অতীতে যেখানে জনদুর্ভোগ এড়াতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই একই স্থানে স্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করা পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়।পরিকল্পনাবিদ ও নগরবিদদের সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি জানিয়েছেন। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের গুঞ্জন থাকায় পল্টন ও গুলিস্তান এলাকার ভিড় বা ট্রাফিক চাপ কমারও কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থনীতি যখন গভীর চাপ ও মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে এ ধরনের একটি অনুৎপাদনশীল অবকাঠামো তৈরি করার যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বাজেট ও সময় বৃদ্ধির পুরোনো প্রবণতা বিবেচনা করলে এই ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সচিবালয়ের ঠিকানা বদলালেই ক্ষমতার কাঠামোগগত কোনো পরিবর্তন হয় না বা নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব কমে না। মূল সমস্যা হলো কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ছোট কাজের জন্যও মানুষকে ঢাকায় ছুটে আসতে হয়। তাই ভবন বা ঠিকানা পরিবর্তনের চেয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ অনেক বেশি জরুরি ছিল। বর্তমান সংকটকালে এই বিপুল অর্থ অপচয় না করে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নগরবিদদের মতামত নিয়ে সরকারের অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয় আবদুল গণি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় তিন হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এটি এখন আর কেবল আলোচনার পর্যায়ে সীমিত নেই। তবে এই বিশাল ব্যয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ কতটা কমাতে পারবে এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে।
প্রস্তাবিত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র সমালোচনা করছেন। শেরেবাংলা নগরের ওই এলাকার চারপাশে ইতিমধ্যে একাধিক বড় হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীর যাতায়াত শুরু হলে এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, অতীতে যেখানে জনদুর্ভোগ এড়াতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই একই স্থানে স্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করা পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়।
পরিকল্পনাবিদ ও নগরবিদদের সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি জানিয়েছেন। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের গুঞ্জন থাকায় পল্টন ও গুলিস্তান এলাকার ভিড় বা ট্রাফিক চাপ কমারও কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থনীতি যখন গভীর চাপ ও মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে এ ধরনের একটি অনুৎপাদনশীল অবকাঠামো তৈরি করার যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বাজেট ও সময় বৃদ্ধির পুরোনো প্রবণতা বিবেচনা করলে এই ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সচিবালয়ের ঠিকানা বদলালেই ক্ষমতার কাঠামোগগত কোনো পরিবর্তন হয় না বা নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব কমে না। মূল সমস্যা হলো কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ছোট কাজের জন্যও মানুষকে ঢাকায় ছুটে আসতে হয়। তাই ভবন বা ঠিকানা পরিবর্তনের চেয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ অনেক বেশি জরুরি ছিল। বর্তমান সংকটকালে এই বিপুল অর্থ অপচয় না করে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নগরবিদদের মতামত নিয়ে সরকারের অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।