ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ Logo বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি, পদ ৩৯ Logo জনবল নিয়োগ হয়নি, প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জুলাই জাদুঘর Logo ফেসবুকে বিএনপি নেতার পোস্ট: ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’ Logo আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর Logo হানিফ পাপ্পুর তুলিতে রিকশাচিত্রের নতুন জীবন Logo যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা Logo চলতি অধিবেশনেই বাংলাদেশ সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি পাসের উদ্যোগ, কার্যকর আগামী বছরের প্রথমার্ধে Logo বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার পথ কি সত্যিই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

যে সেলিব্রিটিকে কখনো দেখিনি, তাঁর জীবন নিয়ে এত আগ্রহ কেন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ফিচার ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে অনেক মানুষই এমন কোনো সেলিব্রিটি বা তারকার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন, যাঁদের সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁদের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। দূরদূরান্তের এই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা প্রতিদিনের আপডেট জানার এক অদ্ভুত আগ্রহ কাজ করে ভক্তদের মনে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের একতরফা মানসিক সংযুক্তি মূলত মানুষের সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তি থেকেই জন্ম নেয়। যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই তার পছন্দের তারকার সঙ্গে একটি অদৃশ্য আবেগী সেতু তৈরি করে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞান এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক বা একতরফা সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো এমন এক ব্যক্তির প্রতি আসক্তি, যিনি হয়তো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে ভক্তদের চেনেন না। ভক্তরা যখন নিয়মিত ওই তারকার কাজ, সাক্ষাৎকার বা ছবি দেখেন, তখন ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে একটি পরিচিতির মোহ তৈরি হয়। এর ফলে তারকাটিকে নিজের জীবনের অত্যন্ত কাছের কেউ বলে ভুল করতে শুরু করেন ভক্তরা।

এ ধরনের মানসিক সম্পর্কের পেছনে আধুনিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটকের কল্যাণে তারকারা এখন ভক্তদের অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছেন, যা এই প্যারাসোশ্যাল মিথস্ক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তারকারাও তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন, যার ফলে ভক্তদের মনে একটি ঘনিষ্টতার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেন যে তাঁরা তারকাটির সুখ-দুঃখ এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের সঙ্গী।

যদিও এই ধরনের সম্পর্ক একতরফা, তবুও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে এর নানা ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। অনেক সময় অচেনা তারকার এই জীবনযাত্রা মানুষকে একঘেয়েমি জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি দেয় এবং অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে অতিরিক্ত মোহগ্রস্ততা বা আচ্ছন্নতা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তারকার প্রতি ভালোবাসা ও কৌতূহল একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে ভালো।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ

যে সেলিব্রিটিকে কখনো দেখিনি, তাঁর জীবন নিয়ে এত আগ্রহ কেন

আপডেট সময় ০৭:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে অনেক মানুষই এমন কোনো সেলিব্রিটি বা তারকার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন, যাঁদের সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁদের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। দূরদূরান্তের এই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা প্রতিদিনের আপডেট জানার এক অদ্ভুত আগ্রহ কাজ করে ভক্তদের মনে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের একতরফা মানসিক সংযুক্তি মূলত মানুষের সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তি থেকেই জন্ম নেয়। যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই তার পছন্দের তারকার সঙ্গে একটি অদৃশ্য আবেগী সেতু তৈরি করে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞান এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক বা একতরফা সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো এমন এক ব্যক্তির প্রতি আসক্তি, যিনি হয়তো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে ভক্তদের চেনেন না। ভক্তরা যখন নিয়মিত ওই তারকার কাজ, সাক্ষাৎকার বা ছবি দেখেন, তখন ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে একটি পরিচিতির মোহ তৈরি হয়। এর ফলে তারকাটিকে নিজের জীবনের অত্যন্ত কাছের কেউ বলে ভুল করতে শুরু করেন ভক্তরা।

এ ধরনের মানসিক সম্পর্কের পেছনে আধুনিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটকের কল্যাণে তারকারা এখন ভক্তদের অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছেন, যা এই প্যারাসোশ্যাল মিথস্ক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তারকারাও তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন, যার ফলে ভক্তদের মনে একটি ঘনিষ্টতার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেন যে তাঁরা তারকাটির সুখ-দুঃখ এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের সঙ্গী।

যদিও এই ধরনের সম্পর্ক একতরফা, তবুও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে এর নানা ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। অনেক সময় অচেনা তারকার এই জীবনযাত্রা মানুষকে একঘেয়েমি জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি দেয় এবং অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে অতিরিক্ত মোহগ্রস্ততা বা আচ্ছন্নতা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তারকার প্রতি ভালোবাসা ও কৌতূহল একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে ভালো।