ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আজিমপুরে সরকারি ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা Logo মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড় Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

যমুনা পারাপারে দুর্ভোগ, দিন দিন জোরালো হচ্ছে দ্বিতীয় সেতুর দাবি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দুই পারের সাধারণ মানুষ নিয়মিতভাবে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই জনবহুল এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা লাঘব করতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসছেন।

ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার লাখো মানুষকে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যমুনা নদী পার হতে হয়। বর্তমানে নৌযানই এই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীভীড়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নদীর তীব্র স্রোত মাঝেমধ্যেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি করে। একসময়ে এই রুটে রেলওয়ের ফেরি চলাচল করলেও নাব্যতা সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় পঁচিশ বছর ধরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী পারাপারের এই বিপজ্জনক ও সময়সাপেক্ষ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

নদী পারাপারের এই রুটিন দুর্ভোগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর। বছরের দীর্ঘ সময় নদী ও নদের বিভিন্ন অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বালুচর হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পাঠাতে পারেন না এবং ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার এই শোচনীয় দশার কারণে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা থমকে গেছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এই সেতু শুধু একটি অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাবে না, বরং পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই দাবি আদায়ের লক্ষে সাঘাটা ও ফুলছড়ির শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠক করে তারা জনমত গঠনে নিরলস কাজ করছেন। সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, উত্তরের সার্বিক অগ্রগতির স্বার্থে অবিলম্বে এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :

আজিমপুরে সরকারি ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা

যমুনা পারাপারে দুর্ভোগ, দিন দিন জোরালো হচ্ছে দ্বিতীয় সেতুর দাবি

আপডেট সময় ০৩:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দুই পারের সাধারণ মানুষ নিয়মিতভাবে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই জনবহুল এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা লাঘব করতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসছেন।

ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার লাখো মানুষকে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যমুনা নদী পার হতে হয়। বর্তমানে নৌযানই এই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীভীড়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নদীর তীব্র স্রোত মাঝেমধ্যেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি করে। একসময়ে এই রুটে রেলওয়ের ফেরি চলাচল করলেও নাব্যতা সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় পঁচিশ বছর ধরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী পারাপারের এই বিপজ্জনক ও সময়সাপেক্ষ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

নদী পারাপারের এই রুটিন দুর্ভোগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর। বছরের দীর্ঘ সময় নদী ও নদের বিভিন্ন অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বালুচর হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পাঠাতে পারেন না এবং ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার এই শোচনীয় দশার কারণে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা থমকে গেছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এই সেতু শুধু একটি অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাবে না, বরং পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই দাবি আদায়ের লক্ষে সাঘাটা ও ফুলছড়ির শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠক করে তারা জনমত গঠনে নিরলস কাজ করছেন। সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, উত্তরের সার্বিক অগ্রগতির স্বার্থে অবিলম্বে এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।