ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির Logo ইনানীতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা Logo বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন Logo মাসের শুরুতেই নতুন পোশাক কেনার কথা ভাবছেন? কেনার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে Logo আজিমপুরে সরকারি ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা Logo মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড় Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

মাসের শুরুতেই নতুন পোশাক কেনার কথা ভাবছেন? কেনার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার পর নতুন জামাকাপড় বা ফ্যাশন অনুষঙ্গ কেনার ঝোঁক অনেকেরই থাকে। তবে শপিংমলে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে ফেলা কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে পোশাক কেনার অভ্যাস অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে এনে দেখা যায় এমন অনেক জিনিস জমেছে যা হয়তো আর কখনোই পরা হয় না। তাই যেকোনো পোশাক বা অনুষঙ্গ কেনার আগে একটু থেমে নিজের প্রয়োজন ও উপযোগিতা সম্পর্কে ভেবে দেখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে টেকসই জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন এবং তাঁদের মতে মানুষের আলমারির ভেতরের চিত্রও পৃথিবীর পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কোনো পোশাক বা ফ্যাশন পণ্য কেনার সময় ভাবা উচিত সেটি তৈরিতে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা পৃথিবীজুড়ে বর্জ্য বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা বন্ধ করে ফ্যাশনে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং একই পোশাক দীর্ঘদিন ব্যবহার করার মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার। এতে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ে, অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীও অতিরিক্ত বর্জ্যের হাত থেকে রক্ষা পায়।

নতুন কোনো পোশাক বা ব্যাগ কেনার আগে নিজেকে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন করা উচিত, যেমন এই জিনিসটি আসলে আপনার কতটা প্রয়োজন এবং আপনি তা কতবার পরবেন। যদি এমন হয় যে পোশাকটি ইতিমধ্যে আপনার সংগ্রহে রয়েছে কিংবা সেটি আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই নয়, তবে কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরার জন্য ভারী ও জমকালো পোশাক একবারের বেশি পরা হয় না বললেই চলে। এর পরিবর্তে পুরোনো দিনের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা ওড়না একটু নতুন নকশায় ব্যবহার করলে যেমন খরচ কমে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করা যায়।

পোশাক নির্বাচনের সময় এর উপাদানের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত কারণ সিনথেটিক বা পলিয়েস্টারজাতীয় কাপড় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের কৃত্রিম পোশাক তৈরিতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহারের পর তা মাটিতে মিশতেও অনেক সময় নেয়। এর পরিবর্তে জৈব তুলার তৈরি পোশাক বেছে নেওয়া ভালো যা উৎপাদনে কম পানি লাগে এবং কোনো ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া কেনার সময় পোশাকটিতে পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক সনদ আছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম উপাদানের পোশাক পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব না হলেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সিনথেটিক কাপড় ধোয়ার সময় প্রচুর মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হয়ে নদী ও সমুদ্রের পানিতে মিশে যায় যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে। এই সমস্যা রোধ করতে ধোয়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক ফিল্টার বা বিশেষ ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ফ্যাশনের নামে অতিরিক্ত খরচ ও পরিবেশ দূষণ রোধে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া।

ট্যাগস :

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

মাসের শুরুতেই নতুন পোশাক কেনার কথা ভাবছেন? কেনার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

আপডেট সময় ০৩:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার পর নতুন জামাকাপড় বা ফ্যাশন অনুষঙ্গ কেনার ঝোঁক অনেকেরই থাকে। তবে শপিংমলে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে ফেলা কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে পোশাক কেনার অভ্যাস অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে এনে দেখা যায় এমন অনেক জিনিস জমেছে যা হয়তো আর কখনোই পরা হয় না। তাই যেকোনো পোশাক বা অনুষঙ্গ কেনার আগে একটু থেমে নিজের প্রয়োজন ও উপযোগিতা সম্পর্কে ভেবে দেখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে টেকসই জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন এবং তাঁদের মতে মানুষের আলমারির ভেতরের চিত্রও পৃথিবীর পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কোনো পোশাক বা ফ্যাশন পণ্য কেনার সময় ভাবা উচিত সেটি তৈরিতে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা পৃথিবীজুড়ে বর্জ্য বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা বন্ধ করে ফ্যাশনে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং একই পোশাক দীর্ঘদিন ব্যবহার করার মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার। এতে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ে, অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীও অতিরিক্ত বর্জ্যের হাত থেকে রক্ষা পায়।

নতুন কোনো পোশাক বা ব্যাগ কেনার আগে নিজেকে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন করা উচিত, যেমন এই জিনিসটি আসলে আপনার কতটা প্রয়োজন এবং আপনি তা কতবার পরবেন। যদি এমন হয় যে পোশাকটি ইতিমধ্যে আপনার সংগ্রহে রয়েছে কিংবা সেটি আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই নয়, তবে কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরার জন্য ভারী ও জমকালো পোশাক একবারের বেশি পরা হয় না বললেই চলে। এর পরিবর্তে পুরোনো দিনের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা ওড়না একটু নতুন নকশায় ব্যবহার করলে যেমন খরচ কমে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করা যায়।

পোশাক নির্বাচনের সময় এর উপাদানের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত কারণ সিনথেটিক বা পলিয়েস্টারজাতীয় কাপড় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের কৃত্রিম পোশাক তৈরিতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহারের পর তা মাটিতে মিশতেও অনেক সময় নেয়। এর পরিবর্তে জৈব তুলার তৈরি পোশাক বেছে নেওয়া ভালো যা উৎপাদনে কম পানি লাগে এবং কোনো ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া কেনার সময় পোশাকটিতে পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক সনদ আছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম উপাদানের পোশাক পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব না হলেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সিনথেটিক কাপড় ধোয়ার সময় প্রচুর মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হয়ে নদী ও সমুদ্রের পানিতে মিশে যায় যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে। এই সমস্যা রোধ করতে ধোয়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক ফিল্টার বা বিশেষ ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ফ্যাশনের নামে অতিরিক্ত খরচ ও পরিবেশ দূষণ রোধে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া।