ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আজিমপুরে সরকারি ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা Logo মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, দাবি আদায়ে আমরা অনড় Logo ঢাকা কর অঞ্চল-১৯–এর অধীন চাকরি, পদ ৬০ Logo ‘সরকারি অফিসগুলো এখন বিএনপির অফিস, সেখান থেকে তারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে’ Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :

আজিমপুরে সরকারি ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

আপডেট সময় ০৮:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।