ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি Logo এল-সাইদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থনের কোনো প্রমাণ নেই Logo ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে সড়কে পোশাকশ্রমিকেরা Logo ইলিশ ধরতে জেলেদের প্রস্তুতি, নিষেধাজ্ঞা উঠছে আজ Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না, সুন্দর ভোট হচ্ছে: সিইসি Logo ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চলছে ভোট গ্রহণ: কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকায় উদ্বিগ্ন দেলাওয়ার Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত তিনজন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ওএসডি হওয়া তিন সরকারি কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিবিড় অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে কোটাসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার কারণেই মূলত প্রশাসন তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় অভিযুক্ত এই কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোনো আবেদনই করেননি। অথচ পরবর্তীতে তাদের সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত কোটায় ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মূল ফলাফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথিপত্রে জালিয়াতি করে তাদের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন নজিরবিহীন অনিয়ম জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসলেও বাকি তিনজন অন্য ক্যাডারেই বহাল রয়েছেন। তবে বাকিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অতীতে বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষায় কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। এই ঘটনাটি সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্যাগস :

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

আপডেট সময় ০১:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত তিনজন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ওএসডি হওয়া তিন সরকারি কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিবিড় অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে কোটাসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার কারণেই মূলত প্রশাসন তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় অভিযুক্ত এই কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোনো আবেদনই করেননি। অথচ পরবর্তীতে তাদের সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত কোটায় ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মূল ফলাফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথিপত্রে জালিয়াতি করে তাদের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন নজিরবিহীন অনিয়ম জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসলেও বাকি তিনজন অন্য ক্যাডারেই বহাল রয়েছেন। তবে বাকিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অতীতে বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষায় কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। এই ঘটনাটি সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।