ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প Logo ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতা, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার Logo মানুষের মতো বক্সিং, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস খেলছে রোবট! Logo পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা Logo গরুর দুধ: উপকার কতটা, ঝুঁকিই-বা কোথায়? Logo ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি’ Logo ‘ওর কথা নিয়ে বেশি ভাবছি না, নতুন এসেছে, বেশি এক্সাইটেড’ Logo জমি লিখে নিতে সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ এএসপির বিরুদ্ধে Logo আন্তসরকারি রেল বৈঠকে প্রস্তাব: বাংলাদেশে মালবাহী ট্রেন ঢোকাতে চায় ভারত Logo তেলপারই খাল: গাইড ওয়ালে আটকে কোটি টাকার সেতু
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চালুর পথে এসপিএম প্রকল্প: তেল খালাসে আসছে নতুন গতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রায় আট হাজার তিন শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের একক বৃহত্তম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম প্রকল্প অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে চালুর পথে রয়েছে। গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের এই যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সম্প্রতি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন গতিশীলতা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর বিপিসির লিয়াজোঁ অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর এই জটিল সামুদ্রিক স্থাপনার সার্বিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ইন্দোনেশিয়ার ওই প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এই ব্যবস্থাপনা চুক্তির মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কার্যক্রম শুরু করা যায়।

উল্লেখ্য, এতদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় আকারের মাদার ট্যাংকার থেকে ছোট জাহাজে লাইটারেজ করে তেল উপকূলে আনতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন এই প্রকল্প চালুর ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বড় তেলবাহী জাহাজ ভাসমান বয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরাসরি মহেশখালীর কালারমারছড়ায় নির্মিত সংরক্ষণ ট্যাংকে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে সেই তেল পাইপলাইনের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো হবে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে দশ থেকে বারো দিন সময় লাগত, এসপিএমের মাধ্যমে সমপরিমাণ তেল মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খালাস করা সম্ভব হবে।

এই আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ফলে জ্বালানি আমদানিতে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় এবং লাইটারেজ জাহাজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে পরিবহন ব্যয় হ্রাসের সুবাদে প্রতিবছর প্রায় সাত শ থেকে আট শ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। চীনের অর্থায়নে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এই প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। যদিও প্রায় দুই বছর আগে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত অপারেটর নিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ায় এতদিন এর সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে শোধনাগারের সক্ষমতা সীমিত থাকায় পাইপলাইনের পুরো সুফল পেতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প

চালুর পথে এসপিএম প্রকল্প: তেল খালাসে আসছে নতুন গতি

আপডেট সময় ০৬:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রায় আট হাজার তিন শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের একক বৃহত্তম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম প্রকল্প অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে চালুর পথে রয়েছে। গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের এই যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সম্প্রতি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন গতিশীলতা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর বিপিসির লিয়াজোঁ অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর এই জটিল সামুদ্রিক স্থাপনার সার্বিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ইন্দোনেশিয়ার ওই প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এই ব্যবস্থাপনা চুক্তির মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কার্যক্রম শুরু করা যায়।

উল্লেখ্য, এতদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় আকারের মাদার ট্যাংকার থেকে ছোট জাহাজে লাইটারেজ করে তেল উপকূলে আনতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন এই প্রকল্প চালুর ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বড় তেলবাহী জাহাজ ভাসমান বয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরাসরি মহেশখালীর কালারমারছড়ায় নির্মিত সংরক্ষণ ট্যাংকে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে সেই তেল পাইপলাইনের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো হবে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে দশ থেকে বারো দিন সময় লাগত, এসপিএমের মাধ্যমে সমপরিমাণ তেল মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খালাস করা সম্ভব হবে।

এই আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ফলে জ্বালানি আমদানিতে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় এবং লাইটারেজ জাহাজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে পরিবহন ব্যয় হ্রাসের সুবাদে প্রতিবছর প্রায় সাত শ থেকে আট শ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। চীনের অর্থায়নে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এই প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। যদিও প্রায় দুই বছর আগে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত অপারেটর নিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ায় এতদিন এর সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে শোধনাগারের সক্ষমতা সীমিত থাকায় পাইপলাইনের পুরো সুফল পেতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।