ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং Logo রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ Logo সাবরিনা পাস্তারস্কি: তাঁকেই কেন বলা হচ্ছে সম্ভাব্য পরবর্তী আইনস্টাইন Logo ১৬ বছরেই ৯ গিনেস রেকর্ড, কে এই বিস্ময়বালক আরিয়ান Logo ‘বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলম্ব হলেও সবাইকে নিয়েই ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী’ Logo আবার চিতাবাঘ কেনার উদ্যোগ, নিঃসঙ্গ সিংহ, হায়েনা ও উল্লুকের সঙ্গী আনছে জাতীয় চিড়িয়াখানা Logo ঢাকা শহরে লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না Logo পর্যটন মেলায় ভ্রমণে নানা ছাড় Logo টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা Logo ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া, তবে আমরা যুদ্ধ চাই না: পুতিন
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সম্প্রতি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত সেই ঘটনার সূত্র ধরেই ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সমিতির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, দুই হাজার দুই সাল থেকেই তিনি এই আইনজীবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সচল রাখা হয়েছিল, মূলত সেই বিষয়টি নিয়েই বর্তমানে সমিতির অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে তর্কের জেরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আলোচনায় আসার পর তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি পুলিশ চাকরিতে নিয়োজিত থেকে কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ বজায় রাখতে পারেন না, কারণ এটি সংগঠনের প্রচলিত বিধিবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শুধু এই ঘটনাই নয়, আইন পেশায় নিয়মিতভাবে যুক্ত না থেকেও যাঁরা নিজেদের সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, সমিতির পক্ষ থেকে তাঁদের সকলকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে নিয়মের বাইরে থাকা এই ধরনের সকল সদস্যের বিরুদ্ধেই যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী সমিতি সূত্রে আরও জানা গেছে, পেশাদার আইনজীবী নন অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও সদস্যপদ ধরে রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন সমিতির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক, বিমা, বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে স্বেচ্ছায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমিতির গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী, কেবল আইন বিষয়ে শিক্ষকতা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরাই প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ সচল রাখতে পারবেন বলে নিয়মে বলা আছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পাঠানো এই কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন যে, পুলিশ বাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য যথাযথ আবেদন করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমিতির পাঠানো নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতোমধ্যে লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি তাঁর দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয় এবং সেই ঘটনার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ট্যাগস :

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ

আপডেট সময় ০১:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সম্প্রতি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত সেই ঘটনার সূত্র ধরেই ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সমিতির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, দুই হাজার দুই সাল থেকেই তিনি এই আইনজীবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সচল রাখা হয়েছিল, মূলত সেই বিষয়টি নিয়েই বর্তমানে সমিতির অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে তর্কের জেরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আলোচনায় আসার পর তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি পুলিশ চাকরিতে নিয়োজিত থেকে কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ বজায় রাখতে পারেন না, কারণ এটি সংগঠনের প্রচলিত বিধিবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শুধু এই ঘটনাই নয়, আইন পেশায় নিয়মিতভাবে যুক্ত না থেকেও যাঁরা নিজেদের সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, সমিতির পক্ষ থেকে তাঁদের সকলকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে নিয়মের বাইরে থাকা এই ধরনের সকল সদস্যের বিরুদ্ধেই যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী সমিতি সূত্রে আরও জানা গেছে, পেশাদার আইনজীবী নন অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও সদস্যপদ ধরে রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন সমিতির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক, বিমা, বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে স্বেচ্ছায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমিতির গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী, কেবল আইন বিষয়ে শিক্ষকতা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরাই প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ সচল রাখতে পারবেন বলে নিয়মে বলা আছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পাঠানো এই কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন যে, পুলিশ বাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য যথাযথ আবেদন করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমিতির পাঠানো নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতোমধ্যে লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি তাঁর দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয় এবং সেই ঘটনার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।