আপডেট সময়
১২:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
৪
বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে পীরগঞ্জের ইউএনওকে ঘিরে ক্ষোভ
জাতীয় ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখা এবং দাপ্তরিক কাজে সেই পরিচয়ের প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক বৈঠকে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে আলাপকালেও তিনি নিজেকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে পুরো এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের বিষয়টি সরকারি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং অফিসে প্রতিকার চাইতে গিয়ে অসদাচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, এই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। অধীনস্থ কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বদলি কিংবা সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক বিসিএস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি দপ্তরে পেশাদার পরিবেশ বজায় থাকার কথা থাকলেও পীরগঞ্জ উপজেলা চত্বরে একধরনের মানসিক চাপের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষ এই দপ্তরে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন এবং অনুমতি পেলেও ভেতরে গিয়ে চেয়ারে বসার সুযোগ পান না। এছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দও তার তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া এই কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল লুটপাটে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদকর্মী বাদল হোসেনের মতে, বর্তমান কর্মকা লের ধরণ দেখে মনে হয় তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ক্যাডার হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ভিন্ন ছিল বলে জনশ্রুতি আছে। সরকারি দপ্তরে এসব অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের কারণে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।আইনজীবীদের মতে, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না এবং দলীয় পরিচয় প্রকাশ করতে পারেন না। ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু সায়েম জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই বিধিমালাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে প্রচার করছেন, যা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
জাতীয় ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখা এবং দাপ্তরিক কাজে সেই পরিচয়ের প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও দাপ্তরিক বৈঠকে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে আলাপকালেও তিনি নিজেকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে পুরো এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের বিষয়টি সরকারি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং অফিসে প্রতিকার চাইতে গিয়ে অসদাচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, এই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। অধীনস্থ কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বদলি কিংবা সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক বিসিএস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি দপ্তরে পেশাদার পরিবেশ বজায় থাকার কথা থাকলেও পীরগঞ্জ উপজেলা চত্বরে একধরনের মানসিক চাপের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষ এই দপ্তরে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন এবং অনুমতি পেলেও ভেতরে গিয়ে চেয়ারে বসার সুযোগ পান না। এছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দও তার তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া এই কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল লুটপাটে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদকর্মী বাদল হোসেনের মতে, বর্তমান কর্মকা লের ধরণ দেখে মনে হয় তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ক্যাডার হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ভিন্ন ছিল বলে জনশ্রুতি আছে। সরকারি দপ্তরে এসব অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের কারণে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
আইনজীবীদের মতে, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না এবং দলীয় পরিচয় প্রকাশ করতে পারেন না। ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু সায়েম জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই বিধিমালাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে প্রচার করছেন, যা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।