ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ৫১তম বিসিএস: ৫ হাজার চিকিৎসক হতে আবেদন করলেন ৪৪,৬৩৫ জন Logo শেখ হাসিনা জীবিত থাকাকালে নাশকতার চেষ্টা থামবে না, মন্তব্য তথ্য উপদেষ্টার Logo ভারতে মসজিদ-মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব জমিয়তের Logo বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আখতারুজ্জামান Logo শ্রমিক বিক্ষোভের পঞ্চম দিন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ Logo কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক Logo ৩৯ জনকে নেবে লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র Logo ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি Logo কারামুক্ত হলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান Logo সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৬:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

খেলা ডেস্ক: মাঠে ও মাঠের বাইরে একজন পেশাদার ফুটবলারকে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো মানসিক দক্ষতা তাদের নিয়মিত প্রদর্শন করতে হয়। অথচ দীর্ঘকাল ধরে সমাজে এমন একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে খেলোয়াড়রা সাধারণত বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে আধুনিক ফুটবলের প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকতে হলে একজন খেলোয়াড়কে দারুণ বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হতে হয়।

ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের কৌশল অনুধাবন করা এবং মুহূর্তের মধ্যে নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। সতীর্থের অবস্থান বুঝে বল পাস করা কিংবা ফাঁকা জায়গা তৈরি করার জন্য নিখুঁত হিসাব কষতে হয় চোখের পলকে। এই অতি ক্ষুদ্র সময়ের সিদ্ধান্তগুলো কেবল শারীরিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পেছনে কাজ করে গভীর মানসিক বিশ্লেষণ ও প্রখর বুদ্ধিমত্তা। মাঠে নামার পর থেকে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তাদের মস্তিষ্কে অবিরাম এই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

খেলাধুলার মাঠের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোচের কৌশলগত নির্দেশনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করাও ফুটবলারদের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কখন কার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কোন নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলতে হবে, সেই বিচারবুদ্ধি তাদের থাকতে হয়। অনেক সময় দলের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত অর্জন বা ইচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়ার মতো পরিপক্ব মানসিকতারও প্রয়োজন পড়ে। এসব বিষয় স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে সফল হতে হলে কেবল পায়ের জাদুই যথেষ্ট নয়, বরং তীক্ষ্ণ মেধারও প্রয়োজন রয়েছে।

অতএব, মাঠের বাইরের খণ্ডিত আচরণ বা স্টেরিওটাইপ দিয়ে পুরো পেশাদার ফুটবলার সমাজকে মূল্যায়ন করা একেবারেই উচিত হবে না। তাদের এই জীবনের না বলা অনেক চ্যালেঞ্জ এবং মানসিক চাপ সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। তাই খেলোয়াড়দের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সমাজের এই গতানুগতিক নেতিবাচক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানও এখন খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তির পাশাপাশি তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের ওপর সমানভাবে জোর দিচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

৫১তম বিসিএস: ৫ হাজার চিকিৎসক হতে আবেদন করলেন ৪৪,৬৩৫ জন

ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি

আপডেট সময় ১১:১৬:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

খেলা ডেস্ক: মাঠে ও মাঠের বাইরে একজন পেশাদার ফুটবলারকে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো মানসিক দক্ষতা তাদের নিয়মিত প্রদর্শন করতে হয়। অথচ দীর্ঘকাল ধরে সমাজে এমন একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে খেলোয়াড়রা সাধারণত বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে আধুনিক ফুটবলের প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকতে হলে একজন খেলোয়াড়কে দারুণ বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হতে হয়।

ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের কৌশল অনুধাবন করা এবং মুহূর্তের মধ্যে নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। সতীর্থের অবস্থান বুঝে বল পাস করা কিংবা ফাঁকা জায়গা তৈরি করার জন্য নিখুঁত হিসাব কষতে হয় চোখের পলকে। এই অতি ক্ষুদ্র সময়ের সিদ্ধান্তগুলো কেবল শারীরিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পেছনে কাজ করে গভীর মানসিক বিশ্লেষণ ও প্রখর বুদ্ধিমত্তা। মাঠে নামার পর থেকে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তাদের মস্তিষ্কে অবিরাম এই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

খেলাধুলার মাঠের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোচের কৌশলগত নির্দেশনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করাও ফুটবলারদের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কখন কার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কোন নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলতে হবে, সেই বিচারবুদ্ধি তাদের থাকতে হয়। অনেক সময় দলের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত অর্জন বা ইচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়ার মতো পরিপক্ব মানসিকতারও প্রয়োজন পড়ে। এসব বিষয় স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে সফল হতে হলে কেবল পায়ের জাদুই যথেষ্ট নয়, বরং তীক্ষ্ণ মেধারও প্রয়োজন রয়েছে।

অতএব, মাঠের বাইরের খণ্ডিত আচরণ বা স্টেরিওটাইপ দিয়ে পুরো পেশাদার ফুটবলার সমাজকে মূল্যায়ন করা একেবারেই উচিত হবে না। তাদের এই জীবনের না বলা অনেক চ্যালেঞ্জ এবং মানসিক চাপ সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। তাই খেলোয়াড়দের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সমাজের এই গতানুগতিক নেতিবাচক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানও এখন খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তির পাশাপাশি তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের ওপর সমানভাবে জোর দিচ্ছে।